নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি :
দেশে ভাতের পর দ্বিতীয় প্রধান খাদ্য গম হলেও নাসিরনগর উপজেলায় দিনদিন কমে যাচ্ছে গমের আবাদ। কৃষিপ্রধান জেলা ব্রাহ্মণবাড়ীয়া খাদ্যশস্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, তবে এ জেলার নাসিরনগরে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ বৃদ্ধি পেলেও গম চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষকরা।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
একসময় ব্যাপকভাবে গমের আবাদ হলেও বর্তমানে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, প্রত্যাশিত লাভ না পাওয়া ও ইরি ধানের আবাদ বিস্তৃত হওয়ায় কৃষকেরা গম থেকে সরে আসছেন। কৃষি অধিদপ্তর জানিয়েছে, স্বল্প সময়ে বেশি ফলন ও মুনাফার কারণে অনেকেই এখন ভূট্টা চাষকে বিকল্প হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫০ হেক্টর। তবে এখন আবাদ হয়েছে মাত্র ৪০ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও গম চাষ বাড়েনি উল্লেখযোগ্যভাবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. ইমরান হোসাইন জানান, গম চাষে পানি কম লাগে এবং অল্প সময়ে ফসল তোলা যায়। কৃষি বিভাগ মাঠপর্যায়ে প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনী ও প্রযুক্তি সহায়তার মাধ্যমে কৃষকদের উৎসাহিত করছে। বর্তমানে আবাদযোগ্য গম জাতের মধ্যে বারিগম-৩০, বারিগম-৩২, বারিগম-৩৩ এবং BWMRI গম-১ বেশি জনপ্রিয়।
উপজেলার ফান্দাউক, বুড়িশ্বর, চাপরতলা, গুনিয়াউক ও ধর্মন্ডল ইউনিয়নে গমের আবাদ থাকলেও অন্য ইউনিয়নগুলোতে গম চাষ প্রায় উপেক্ষিত।
ফান্দাউক ইউনিয়নের রসুলপুরের কৃষক আমির হোসেন বলেন, “আগে ভূট্টা চাষ করতাম। এবার কৃষি অফিসের নির্দেশনা মেনে গম করেছি। ফলনের অবস্থা ভালো, আশা করছি লাভও বেশি হবে।”
বুড়িশ্বর ইউনিয়নের কৃষক মজনু মিয়া বলেন, “ধান আবাদ বেশি করি। তবে এবার গম করেছি, জমির ফসল দেখে মন ভরে যায়। সরকারি সহযোগিতা পেলে আরো বড় পরিসরে আবাদ করবো।”
কৃষকেরা মনে করেন, সরকারি সহায়তা ও নিয়মিত প্রশিক্ষণ মিললে গম চাষ আবারও বাড়তে পারে। অন্যদিকে কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, উচ্চমূল্যের সবজি ও ইরি ধানের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ায় গমের আবাদ কমেছে।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

