দেশি মাছের সঙ্গে চাষ হচ্ছে গলদা চিংড়ি সহ বাহারী মাছ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

 

কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলাসহ জেলায় জলবায়ু ও আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে মিঠা পানিতে দেশী মাছের সঙ্গে গলদা চিংড়ি এবং বাহারী মাছ চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এতে করে পরিবারে প্রোটিন-পুষ্টি চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন মাছচাষিরা।

জলবায়ু ও আবহাওয়ার পরিবর্তন প্রভাব এখন দৃশ্যমান সারাবিশ্বে। দিন যতই যাচ্ছে ততই এর প্রভাব মানুষ ও জীবজগতের ওপর পড়ছে। কুড়িগ্রাম জেলায় জলবায়ু ও আবহাওয়ার প্রভাবের কারণে বন্যায় পুকুরের মাছ বের হয়ে যায়।

আবার খরার কারণে পানি শুকিয়ে মাছ মারা যায়। ফলে দুর্যোগকালীন ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে জেলায় মিশ্র পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে চাষিরা জীবনমানের পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম হয়েছেন।

কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার বৈদ্যেরবাজার এলাকা মৎস্যচাষী শৈবাল ক্লান্তি রায় বলেন, সনাতন পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে এসে পুকুরে রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভার কাপ, কার্পুসহ গলদা চিংড়ি মাছ চাষ করছি।

এছাড়া পুকুর পাড়ের পরিত্যক্ত জায়গায় শাক, পেঁপে, কলা, লেবু, নারকেলসহ বিভিন্ন ফসল ফলাচ্ছি এতে করে আমার মতো জেলায় নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরির পাশাপাশি বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

একই এলাকার মৎস্যচাষী শ্রী পল্লব বলেন, বিভিন্ন পুকুরে এখন বাংলা বা মিশ্র মাছের সঙ্গে গলদা চিংড়ি চাষ করা হচ্ছে। বাড়তি খরচ না থাকায় বাংলা মাছের খাদ্য দিয়ে চাষ করে মাত্র ৬ মাসে বাড়তি লাখ টাকা আয় করছে জেলার মৎস্য চাষিরা।

কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার মৎস্যচাষী মোঃ আব্দুর রাজ্জাক (৫০) বলেন, যাদের পুকুর নেই তারাও মাছ চাষে পিছিয়ে নেই। বাড়ির উঠানে স্বল্প পরিসরে গোলাকার ট্যাংকে কৈ মাছ চাষ করছে।

বাড়ির দৈনন্দিন কাজ শেষে সামান্য পরিশ্রমে ট্যাংকে মাছ চাষ করে বছরে প্রায় লাখ টাকা আয় হচ্ছে। অল্প খরচে বাড়তি আয়ে লাভবান হচ্ছে এই অঞ্চলের মানুষ। এতে করে জেলা অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হচ্ছে।

মৎস্য দারিদ্র পীড়িত পরিবারগুলো স্বল্প পরিসরে মাছ চাষ করে প্রোটিন, পুষ্টি চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি মাছ বিক্রি করে অর্থনৈতিক লাভবান হচ্ছে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

মৎস্যচাষী মোঃ আমিনুল ইসলাম (৫৬) বলেন, কুড়িগ্রাম জেলায় মিঠা পানিতে প্রথমবারের মতো অ্যাকুরিয়ামের বাহারী মাছ উৎপাদিত হচ্ছে। মিঠা পানি পুুকুরে বাহারী মাছ উৎপাদনে সৃষ্টি হয়েছে নতুন সম্ভাবনা। দেশী প্রজাতি মাছের চেয়ে বর্তমানে বাহারী মাছের চাহিদা হওয়ায় জেলায় তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন উদ্যোক্তা।

মৎস্যচাষীর স্ত্রী বাসন্তী রাণী বলেন, মাছ চাষের পাশাপাশি আমরা শাক সবজি পেঁপে নারিকেল, কলা চাষ করছি এতে করে আমাদের আয় উন্নতি হচ্ছে।

মৎস্য বিশেষেজ্ঞ মোঃ মোজাম্মেল হক বলেন, কুড়িগ্রাম জেলায় সরকারি-বেসরকারি সহায়তার মাধ্যমে জলবায়ু সহিষ্ণু শিং, মাগুর, পাবদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ হচ্ছে জেলার পুকুরগুলোতে। এছাড়া পুকুরে মাছের অক্সিজেন সরবরাহ ঠিক রাখতে অ্যারেটর মেশিন ব্যবহৃত হচ্ছে।

কুড়িগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ জহিরুল ইসলাম আকন্দ বলেন, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা ও পার্বতীপুরে গলদা চিংড়ির পোনা বা পিএল পাওয়া যাচ্ছে।

এসব পিএল বছরের মে, জুন, জুলাই মাসে পুকুরে বাংলা মাছের সঙ্গে ছেড়ে দেওয়া হয়। এছাড়া জেলায় বাহারী মাছ বিদেশে রপ্তানি করার সম্ভবনা রয়েছে। এই পদ্ধতি বেশ জনপ্রিয় করার জন্য মৎস্যচাষিদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here