নিজস্ব প্রতিবেদক :
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বিদ্যমান দুই লেনের সড়ক আরও প্রশস্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
তিনি বলেন, বিষয়টি সরকার গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে এবং দ্রুত কাজ শুরুর প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া নদীর ওপর নির্মিত গোমা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, “ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক এখনও দুই লেনের হওয়ায় স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত সরু। এই মহাসড়ক আরও চওড়া করা প্রয়োজন—এটা সরকার উপলব্ধি করেছে। আমি নিজেও এসে বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেছি। কীভাবে দ্রুত কাজ শুরু করা যায়, সে বিষয়ে পরিকল্পনা রয়েছে। আশা করি শিগগিরই এ বিষয়ে সুখবর পাওয়া যাবে।”
আসন্ন ঈদযাত্রা প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়বে, যা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। মহাসড়কের ২০৭টি সম্ভাব্য যানজটপূর্ণ স্থানে সার্বক্ষণিক মনিটরিং চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি হাইওয়ে ও সেতুগুলোতেও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোথাও বড় ধরনের যানজটের খবর পাওয়া যায়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নৌপথ উন্নয়ন নিয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে নিয়মিত প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কিলোমিটার নৌপথ ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে সচল রাখা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার নৌপথে খননকাজ চলছে এবং আরও প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কিলোমিটার নৌপথ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে সদরঘাট থেকে বরিশাল ও ভোলা নৌপথে নিরবচ্ছিন্ন নৌযান চলাচল নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
গোমা সেতুর গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রায় ২৮৩ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটি দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সড়ক ও রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মণি, বরিশাল-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খানসহ সড়ক বিভাগ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) সূত্রে জানা গেছে, সেতুটি চালু হলে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার সঙ্গে পটুয়াখালীর সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এতে দুই জেলার প্রত্যন্ত এলাকার অন্তত পাঁচ লাখ মানুষের যাতায়াত সহজ হবে এবং সময় সাশ্রয় হবে প্রায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা।
২০১৭ সালে ৫৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ে তিন বছর মেয়াদি প্রকল্প হিসেবে সেতু নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। তবে বিভিন্ন জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়সীমার পাঁচ বছর পর কাজ শেষ হয় এবং এতে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৯২ কোটি ৪৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা, যা প্রাথমিক ব্যয়ের তুলনায় ৬০ শতাংশের বেশি।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, সেতুর উচ্চতা নিয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের আপত্তির কারণে নকশায় পরিবর্তন আনা হয়।
প্রথমে সর্বোচ্চ জোয়ারের সময় সেতুর উচ্চতা ৭ দশমিক ৬২ মিটার নির্ধারণ করা হলেও পরে তা বাড়িয়ে ১২ দশমিক ২০ মিটার করা হয় এবং মাঝখানে স্টিল ট্রাস স্প্যান যুক্ত করা হয়।
দক্ষিণাঞ্চলে এ ধরনের ‘স্টিল ট্রাস’ সেতু এটিই প্রথম। এছাড়া নকশা পরিবর্তন, জমি অধিগ্রহণ ও নদীশাসন কাজ যুক্ত হওয়ায় প্রকল্পের সময়সীমা পাঁচ দফা বাড়াতে হয়েছে।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

