ডুবোচরের ফাঁদে ইলিশ: বরিশালের নদীতে বড় মাছের আকাল

কেজি ৩,৫০০ টাকা

বরিশাল প্রতিনিধি :

 

দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে জাল ফেলার অনুমতি মিললেও বরিশালের জেলেদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। নদীজুড়ে ডুবোচর, কমে যাওয়া স্রোত আর দূষণের কবলে পড়ে ইলিশের স্বাভাবিক চলাচল থমকে গেছে। ফলে বড় ইলিশ এখন নদী থেকে প্রায় উধাও, বাজারে দেখা দিয়েছে তীব্র সংকট।

জাটকা রক্ষায় গত মার্চ ও এপ্রিল মাসে শরীয়তপুরের গোসাইরহাট, বরিশালের হিজলা ও মুলাদী উপজেলার সীমান্তবর্তী মেঘনা নদী, তার শাখানদী এবং কীর্তনখোলা নদীর ৩১৮ বর্গকিলোমিটার এলাকায় সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। এ সময় বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তর বরিশাল, পটুয়াখালী ও ভোলায় ১৩৮টি মোবাইল কোর্ট ও ১,২৬৩টি অভিযান চালায়। জব্দ করা হয় প্রায় ১৪ টন ইলিশ, মামলা হয় ২১৩টি।

কিন্তু নিষেধাজ্ঞা উঠতেই হতাশ জেলেরা। মেহেন্দীগঞ্জের উলানিয়ার জেলে তোফায়েল হোসেন বলেন, “দুই মাস বসে থেকে এখন নদীতে নেমে দেখি বেশিরভাগই ছোট মাছ। বড় ইলিশ নেই বললেই চলে। দাদনের চাপে আছি।চরমোনাই-সংলগ্ন বাগরজা এলাকার জেলে ফিরোজ গাজীর অভিযোগ, “চর জেগে ওঠায় আগের মতো ইলিশ আর আসে না।

হিজলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মাদ আলম জানান, এখন ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশই বেশি মিলছে। এক থেকে দেড় কেজি ওজনের বড় ইলিশ খুবই কম।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

বরিশাল জেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, “শুধু অভিযানে ইলিশ বাড়বে না। ডুবোচরের কারণে সাগর-নদীর মধ্যে ইলিশের চলাচল বন্ধ। বড় ইলিশ নদীতে ঢুকতে পারছে না, ছোট ইলিশও সাগরে যেতে পারছে না। এতে বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, রঙেও পরিবর্তন আসছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে সাড়ে ৫ লাখ টন ইলিশ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বরিশালের লক্ষ্য ৩৮ হাজার টন। তবে নদীর বর্তমান অবস্থায় লক্ষ্য পূরণ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাজারে। বরিশাল পোর্ট রোড মৎস্য মোকামের আড়তদার জহির সিকদার জানান, শুক্রবার মোকামে ১০০ মণেরও কম ইলিশ এসেছে। এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৩,৫০০ টাকা কেজি দরে। ৬০০-৯০০ গ্রামের ইলিশ ২,৬০০ টাকা এবং ৫০০ গ্রামের ইলিশ ২,১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক নাসির উদ্দিন বলেন, “গত দুই বছর ধরেই ইলিশের আকার ছোট হচ্ছে। ডুবোচর ও নদীদূষণের কারণে মাইগ্রেশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ইলিশ বাঁচাতে নদীর নাব্যতা ফেরানো এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে এখনই কার্যকর উদ্যোগ জরুরি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here