ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি :
নীলফামারীর ডিমলায় চলতি বোরো মৌসুমে সরকারি খাদ্যগুদামে বোরো ধান ও সিদ্ধ চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে এ সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে উপজেলা খাদ্য বিভাগ।
(বৃহস্পতিবার) ২১শে মে সকালে উপজেলা পরিষদ হলরুম উপজেলা প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগের যৌথ আয়োজনে কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার বলেন, “সরকার চায় প্রকৃত কৃষকরা যেন তাদের উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য সরাসরি পান।
মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে এবং খাদ্যশস্য সংগ্রহে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন করা হচ্ছে। এর ফলে প্রান্তিক কৃষকরা সরাসরি সরকারি গুদামে ধান বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন।”
তিনি আরও বলেন, কৃষকদের হয়রানিমুক্ত পরিবেশে ধান সংগ্রহ নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ধানের গুণগত মান যাচাই, ওজন প্রক্রিয়া ও অর্থ পরিশোধে যেন কোনো অনিয়ম না হয়, সেদিকেও কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরানুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) রওশন কবির, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মীর হাসান আল বান্না, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মামুনুর রশিদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক রইসুল আলম চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম রব্বানী প্রধান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী উপজেলা আমির অধ্যাপক মাওঃ মুজিবুর রহমান, সেক্রেটারি কাজী রোকনুজ্জামান বকুল, উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি আরিফুল ইসলাম লিটন, খাদ্যগুদামের (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা মোঃ নবাব আলী এবং ডিমলা থানা (ওসি) শওকত আলী সরকারসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও কৃষক/ কিসানি প্রতিনিধিরা।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
উপজেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে বলে , চলতি মৌসুমে কৃষকদের কাছ থেকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে কৃষকদের আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। পরে উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমে নির্ধারিত সংখ্যক কৃষক নির্বাচন করা হয়। নির্বাচিত কৃষকরাই সরকারি খাদ্যগুদামে ধান সরবরাহের সুযোগ পাবেন।
খাদ্য বিভাগ জানায়, এ বছর ডিমলা উপজেলা খাদ্যগুদামে প্রতি কেজি ধান ৩৬ টাকা দরে মোট ১ হাজার ২০৮ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতি কেজি সিদ্ধ চাল ৪৯ টাকা দরে ১ হাজার ৪৭০ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করা হবে। উদ্বোধনের প্রথম দিন থেকেই কৃষকদের কাছ থেকে নির্ধারিত মূল্যে ধান ও সিদ্ধ চাল সংগ্রহ শুরু হয়েছে।
লটারিতে নির্বাচিত কৃষকদের তালিকা ইউনিয়ন পর্যায়ের কৃষি অফিসের নোটিশ বোর্ডে প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। তালিকাভুক্ত কৃষকরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি খাদ্যগুদামে ধান সরবরাহ করতে পারবেন।
উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন হওয়ায় সাধারণ কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত একাধিক কৃষক জানান, অতীতে ধান বিক্রিতে নানা জটিলতা থাকলেও এবার প্রকাশ্য লটারির কারণে প্রকৃত কৃষকরাই সুযোগ পাচ্ছেন। এতে কৃষকদের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়েছে।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

