ডিমলায় ছয় মাসের ছুটি নিয়ে আর ফেরেননি প্রধান শিক্ষক, উঠেছে নানা অভিযোগ

নীলফামারী প্রতিনিধি :

 

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ইসকেন্দার মির্জার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক খয়রাত হোসেন প্রায় ১০ বছর ধরে নিয়মিত বিদ্যালয়ে না এসেও চাকরিতে বহাল থেকে বেতন-ভাতা গ্রহণ করছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খয়রাত হোসেন নামে একজন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও অধিকাংশ শিক্ষার্থী তাকে কখনও বিদ্যালয়ে দেখেনি।

নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আখিমনি বলে, “আমি এই বিদ্যালয়ে কয়েক বছর ধরে পড়ছি। কিন্তু খয়রাত হোসেন নামে কোনো স্যারকে ক্লাস নিতে দেখিনি।”

সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুন্নী আক্তার বলে, “খয়রাত স্যার নামে একজন শিক্ষক আছেন শুনেছি। কিন্তু তাকে কখনও স্কুলে দেখিনি।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ আড়াল করতেই প্রধান শিক্ষক ইসকেন্দার মির্জা দীর্ঘদিন ধরে ছুটিতে রয়েছেন। তিনি ডিমলা ও রংপুরে অবস্থান করলেও মাঝে মধ্যে বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন।

অভিযোগ রয়েছে, প্রধান শিক্ষক তার মামাতো ভাই মো. আতোয়ার হোসেন জুয়েলকে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি করে ছয় মাসের ছুটি নেন। তবে ছুটির মেয়াদ শেষ হলেও তিনি বিদ্যালয়ে যোগদান করেননি।

বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক মহেশ চন্দ্র রায় বলেন, “প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন না। ছুটিতে যাওয়ার পর থেকে বিদ্যালয়ের দায়িত্ব অন্য শিক্ষক পালন করছেন।”

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি মো. আতোয়ার হোসেন জুয়েল বলেন, “প্রধান শিক্ষক ছুটির আবেদন করলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজারের পরামর্শে আমি ছুটির কাগজে স্বাক্ষর করি।”

এদিকে জ্যেষ্ঠ শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও জুনিয়র শিক্ষক আব্দুল মালেককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক বলেন, “প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব অর্পণ করায় আমি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছি।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক ইসকেন্দার মির্জা। তিনি বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী ছুটি নিয়েছি। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়।”

ডিমলা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. আফরোজা বেগম বলেন, “প্রধান শিক্ষকের ছুটির বিষয়টি আমার জানা আছে। তবে ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি বিদ্যালয়ে যোগদান করেননি, বিষয়টি আমার জানা নেই। খয়রাত হোসেনের বিষয়ে অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির বর্তমান সভাপতি মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, “ছয় মাসের ছুটির বিধান আছে কি না তা যাচাই করা হবে। অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here