টেন্ডার পাশ হওয়ার পরেও কুড়িগ্রামের রাজারহাট-আনন্দবাজার সড়কের বেহাল দশা, ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

 

কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট-আনন্দবাজার সড়কের বিভিন্ন অংশে গর্ত খনন করে রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শুরুর পর এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ বন্ধ রয়েছে।

এরমধ্যে রাস্তাটিতে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত, কোথাও কোথাও আবার দেবে গেছে। ফলে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকার মানুষ।

জানা গেছে, গত ২০২৩ সালে রাস্তাটির রক্ষণাবেক্ষণ কাজের টেন্ডার করেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর আরসিআইপি (রুরাল কানেকটিভিটি ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট)।

কাজের প্রাক্কলিত মূল্য ১৭ কোটি ৬৬ লাখ ৬০ হাজার ৩৬৫ টাকা ধরা থাকলেও প্রায় ১৬% লেসে ১৪ কোটি ৪৯ লাখ ৪৬ হাজার ১০ টাকায় নিয়ে চুক্তিবদ্ধ হন রংপুরের ঠিকাদার মোঃ খায়রুল কবির রানা।

এরপর ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে কাজ শুরু হয়। এমনিতেই দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির বিভিন্ন অংশে পিচ ও খোয়া উঠে যায়। তার ওপর রাস্তা খুঁড়ে এবং পুরাতন রাস্তার ইট-পাথর উল্টে রেখে খননের পর এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ বন্ধ রাখায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে সড়কটি।

চুক্তির শর্তানুযায়ী ২০২৬ সালের ৩০ জানুয়ারি কাজটি সমাপ্তির কথা ছিল। রাজারহাট উপজেলা সদর বাজারের পুরাতন সোনালী ব্যাংক মোড় থেকে উপজেলার উমর মজিদ ইউনিয়নের ফরকেরহাট বাজারের ওপর দিয়ে উলিপুর-কুড়িগ্রাম সড়কের সঙ্গে সংযোগ সড়কটি দুই উপজেলার জন্য অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ।

১২ কিলোমিটারের এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য যানবাহন এবং পথচারী চলাচল করেন। এছাড়া উপজেলার উমরমজিদ ইউনিয়ন থেকে রাজারহাট উপজেলা সদরে যাতায়াতের অন্যতম সড়ক এটি। সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় অন্তত ১৫ গ্রামের ৩০ হাজার মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

স্থানীয় বাসিন্দা ও অটোচালক মোঃ মোস্তফা মিয়া বলেন, খননের পর কাজ বন্ধ রাখায় রাস্তার অবস্থা খুব খারাপ হয়েছে। ফলে ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চলাচল করতে হয়।

কলেজ ছাত্র মোঃ সুমন মিয়া বলেন, স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের এই রাস্তায় চলাচল করতে অসুবিধা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আতাউর রহমান আতা বলেন, বাড়িতে যদি আগুন লাগে তাহলে ফায়ার সার্ভিস আসার কোনো উপায় নেই। এমনকি অসুস্থ রোগী পরিবহনে অ্যাম্বুলেন্সও আসতে পারে না।

ঠিকাদার মোঃ খাইরুল কবির রানা বলেন, কিছু সমস্যা ছিল, তবে এখন কাজটি শুরু করা হয়েছে।

উলিপুর উপজেলা প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রদীপ কুমার বলেন, রাজারহাট থেকে আনন্দবাজার রাস্তার কাজ চলছে, কিছুদিন বন্ধ ছিল।

এখন আমরা নতুনভাবে ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলেছি ঠিকাদার আশ্বস্ত করেছেন আর কাজ বন্ধ রাখবেন না। দ্রুত কাজটি সম্পন্ন করবেন। আশা করি, যে জনদুর্ভোগ হচ্ছে সেটি দ্রুত লাঘব হবে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here