মনপুরা (ভোলা) প্রতিনিধি :
ভোলার দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অবিরাম বৃষ্টির কারণে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম, সড়ক, ফসলের মাঠ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আঙিনা এবং বসতভিটা পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমর, আবার কোথাও তিন থেকে চার ফুট পর্যন্ত পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল থেকে বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ায় পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। বিভিন্ন এলাকায় সড়কে পানি জমে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। প্রয়োজনীয় কাজে বাইরে বের হওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। বাজার, দোকানপাট ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও স্থবিরতা নেমে এসেছে। অনেক পরিবারের ঘর ও উঠানে পানি ঢুকে পড়ায় শিশু, নারী ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছেন।
সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। দিনমজুর, জেলে, রিকশাচালক, নির্মাণশ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার শ্রমজীবীরা কয়েক দিন ধরে কাজে যেতে না পারায় আয় বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক পরিবার নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সংগ্রহ করতেও হিমশিম খাচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কলাতলী ইউনিয়নের ঢালচর, কাজীরচর ও কলাতলী চর, দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের রহমানপুর, হাজিরহাট ইউনিয়নের দাসেরহাট, চরযতিন ও সোনারচরের বিভিন্ন অংশ, মনপুরা ইউনিয়নের আন্দিরপাড় ও কাউয়ারটেক এবং উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের চরগোয়ালিয়াসহ একাধিক এলাকায় পানি জমে রয়েছে। কৃষিজমিতেও পানি জমে থাকায় আমন মৌসুমের চাষাবাদ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শুধু ভারী বৃষ্টিই নয়, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনাও জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ। তাদের দাবি, পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ছাড়াই বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি একাধিক স্লুইসগেট দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকায় খাল দিয়ে দ্রুত পানি নামতে পারছে না। ফলে অল্প সময়ের ভারী বৃষ্টিতেই বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয়রা দ্রুত অচল স্লুইসগেট মেরামত, খাল পুনঃখনন এবং আধুনিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন, যাতে প্রতি বর্ষায় একই দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টানা বর্ষণের কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশন এবং অচল স্লুইসগেট মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ চলছে। তবে স্থায়ী সমাধানের দাবিতে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ভোগ থেকে মনপুরাবাসীকে মুক্তি দেওয়া হবে।
টপিক

