বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শিখা অনির্বাণে বিদায়ী নৌপ্রধানের শ্রদ্ধা নিবেদন

এইবাংলা অনলাইন
  • প্রকাশকালঃ বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :

 

বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বুধবার (২২ জুলাই) ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর বীর শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে বীর শহিদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানান। এ সময় মুক্তিযুদ্ধে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠায় জীবন উৎসর্গকারী শহিদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পেছনে বীর শহিদদের অবদান জাতির ইতিহাসে অবিস্মরণীয়। তাঁদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। জাতি চিরকাল গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে তাঁদের অবদান স্মরণ করবে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

শিখা অনির্বাণ বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর বীর শহিদদের স্মৃতির প্রতি জাতির শ্রদ্ধার প্রতীক। জাতীয় দিবস এবং গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা, তিন বাহিনীর প্রধানসহ সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এখানে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে থাকেন।

নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, দেশপ্রেম, কর্তব্যনিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনী দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং সামুদ্রিক স্বার্থ সুরক্ষায় নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। বীর শহিদদের আত্মত্যাগ সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের জন্য প্রেরণার চিরন্তন উৎস হিসেবে বিবেচিত।

বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধানের এ শ্রদ্ধা নিবেদন তাঁর দায়িত্বকাল সমাপ্তির প্রাক্কালে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহিদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের পাশাপাশি তাঁদের আদর্শ ধারণ করে দেশের সেবা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক

এই সম্পর্কিত আরো খবর

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় চাকরি জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রধান শিক্ষক মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায় জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ২৬ নম্বর কালিতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দীর্ঘ ৩৩ বছরের শিক্ষকতা জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ সাজানো হয়।

অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান শেষে মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে সুসজ্জিত গাড়িতে করে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। গাড়ির সামনে-পেছনে ছিলেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী। গাড়িতে ওঠার সময় তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো এবং ফুলের মালা পরিয়ে বিদায় জানানো হয়। এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিদায়ী প্রধান শিক্ষক।

বিদায়কালে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মো. মোছাদ্দেকুর রহমান বলেন, “আমি বিদায় নিচ্ছি, কিন্তু দোয়া রেখে গেলাম। তোমরা নিজেদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।”

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা বলেন, বিদায় সবসময়ই কষ্টের। তবে একজন শিক্ষকের কর্মজীবনের শেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরা এমন আয়োজন করেছেন। এতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকের দীর্ঘদিনের সম্পর্কও প্রতিফলিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ বলেন, একজন শিক্ষক চাকরিজীবন শেষে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার সময় সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদের ছেড়ে যাওয়ার কষ্ট অনুভব করেন। মোছাদ্দেকুর রহমানের মতো প্রতিটি শিক্ষকের বিদায়ই স্মরণীয় হওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ইন্সট্রাক্টর এ কে এম সারোয়ার জাহান আহমেদি, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ফজলার রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাক, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মোমিন এবং পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হকসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

এই বাংলা/এমএস

পঞ্চগড়ে প্রধান শিক্ষককে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায়