মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উত্তরবঙ্গ ভাসে, ইন্টেরিম হাসে; স্লোগানে উত্তাল ইবি

এইবাংলা অনলাইন
  • প্রকাশকালঃ শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৫
ফাইল ফুটেজ

মাহফুজুল হক পিয়াস, ইবি :

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে ‘উত্তরবঙ্গ ভাসে, ইন্টেরিম হাসে’সহ নানা স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাস। এসময় রংপুর বিভাগের আটটি জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির ইবি শিক্ষার্থীসহ অন্যরা অংশগ্রহণ করেন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নভেম্বরের মধ্যেই এ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করার দাবি জানান তারা।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) রাত আটটার দিকে ক্যাম্পাসের জিয়া মোড় থেকে মশাল মিছিল বের করেন। পরে এটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

মশাল মিছিলে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা ‘জাগো বাহে, কোনটে সবায়’,’ উত্তরবঙ্গের কান্না, আর না আর না’, ‘উত্তরবঙ্গ ভাসে, ইন্টেরিম হাসে’, ”ভারত যদি বন্ধু হও, ন্যায্য পানির হিস্যা দাও’, ‘চুক্তি নিয়ে টালবাহানা, আর না আর না’, ‘তিস্তা পাড়ের সাথে, ইবিয়ানরা আছে’ ইত্যাদি স্লোগান দেয়।

মিছিলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ইবির সাবেক সমন্বয়ক এস এম সুইট, সহ-সমন্বয়ক গোলাম রব্বানী, পঙ্কজ রায়, ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মাহমুদুল হাসান, রংপুর জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির সভাপতি মশিউর রহমানসহ অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, “তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন কোনো একদিনের বা এক ব্যক্তির নয়, এটি তিস্তা পাড়ের লক্ষাধিক মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে জড়িত দীর্ঘ আন্দোলন। সরকারের অবহেলায় উত্তরবঙ্গ বারবার বঞ্চিত হয়েছে, রংপুরসহ তিস্তাপাড়ের মানুষ আজও বৈষম্যের শিকার। তিস্তাপাড়ের অধিকার আদায়ে নতুন প্রজন্ম রক্ত দিতেও প্রস্তুত।”

ইবির সাবেক সমন্বয়ক এস এম সুইট বলেন, “বারবার দেখা গেছে, সরকার পরিবর্তনের পরও উত্তরবঙ্গ রয়ে গেছে অবহেলিত। প্রতিটি বাজেটে রংপুর বিভাগকে বিমাতাসুলভ আচরণের শিকার হতে হয়েছে। তিস্তা পাড়ের মানুষের জীবনমান ও রাজধানী বা দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জীবনমানের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য-এটি স্বাধীন বাংলাদেশে মেনে নেওয়া যায় না।”

তিনি আরও বলেন, “তিস্তা মহাপরিকল্পনার আওতাভুক্ত কাজগুলো যদি আগামী নভেম্বরের মধ্যে শুরু না হয়, তাহলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমরা বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলব। তিস্তা পারের মানুষ দেশের খাদ্যশস্য ভাণ্ডারের বড় অবদান রাখে, তাদের ন্যায্য অধিকার দিতে না পারলে কোনো সরকারই টিকে থাকতে পারবে না।”

এই বাংলা/এমএস

টপিক

এই সম্পর্কিত আরো খবর

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় চাকরি জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রধান শিক্ষক মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায় জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ২৬ নম্বর কালিতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দীর্ঘ ৩৩ বছরের শিক্ষকতা জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ সাজানো হয়।

অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান শেষে মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে সুসজ্জিত গাড়িতে করে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। গাড়ির সামনে-পেছনে ছিলেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী। গাড়িতে ওঠার সময় তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো এবং ফুলের মালা পরিয়ে বিদায় জানানো হয়। এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিদায়ী প্রধান শিক্ষক।

বিদায়কালে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মো. মোছাদ্দেকুর রহমান বলেন, “আমি বিদায় নিচ্ছি, কিন্তু দোয়া রেখে গেলাম। তোমরা নিজেদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।”

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা বলেন, বিদায় সবসময়ই কষ্টের। তবে একজন শিক্ষকের কর্মজীবনের শেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরা এমন আয়োজন করেছেন। এতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকের দীর্ঘদিনের সম্পর্কও প্রতিফলিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ বলেন, একজন শিক্ষক চাকরিজীবন শেষে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার সময় সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদের ছেড়ে যাওয়ার কষ্ট অনুভব করেন। মোছাদ্দেকুর রহমানের মতো প্রতিটি শিক্ষকের বিদায়ই স্মরণীয় হওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ইন্সট্রাক্টর এ কে এম সারোয়ার জাহান আহমেদি, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ফজলার রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাক, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মোমিন এবং পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হকসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

এই বাংলা/এমএস

পঞ্চগড়ে প্রধান শিক্ষককে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায়