গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি :
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক এস এম বাবুল হোসেনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা দায়েরের ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী সাংবাদিকের দাবি, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা, যা করেছেন তারই আপন ফুফাতো ভাই সিরাজুল ইসলাম ছিরু।
গত ২ জুন গোপালগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। আদালত অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য টুঙ্গিপাড়া থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন।
সাংবাদিক এস এম বাবুল হোসেন দৈনিক ভোরের দর্পণ পত্রিকার সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার এবং ঢাকাস্থ গোপালগঞ্জ সাংবাদিক সমিতির সভাপতি। মামলায় তার পাশাপাশি পরিবারের আরও ছয় সদস্যকে বিবাদী করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে চাঁদাবাজি, লুটপাট ও ভাঙচুরের অভিযোগ আনা হলেও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাবুল হোসেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি বাড়ির স্যানিটারি পাইপলাইনের ওপর ইটের গাঁথুনি নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় মুরব্বিদের পরামর্শে ওই গাঁথুনির কিছু অংশ সরিয়ে ফেলার পরই প্রতিশোধমূলকভাবে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
স্থানীয় কয়েকজন মুরব্বি ও প্রতিবেশীও মামলার অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেছেন। গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা জামিল আহমেদ বলেন, বিষয়টি নিয়ে সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাদী সেখানে সাড়া না দিয়ে আদালতে মামলা করেছেন। তার মতে, মামলার অভিযোগের সঙ্গে বাস্তব ঘটনার কোনো মিল নেই।
একই গ্রামের এজাজুল হক শেখ, স্থানীয় মসজিদের ইমাম সিদ্দিকুর রহমান খান এবং প্রতিবেশী ইদ্রিস শেখও দাবি করেন, এলাকায় চাঁদাবাজি বা হামলার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। তারা মামলাটিকে হয়রানিমূলক বলেই মনে করছেন।
অন্যদিকে, মামলার বাদী সিরাজুল ইসলাম ছিরু তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, সাংবাদিক বাবুল হোসেন ও তার পরিবার তার জমি দখল করে রেখেছেন এবং তার কাছ থেকে চাঁদা দাবি করেছেন। সে কারণেই তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।
এ বিষয়ে টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আইয়ুব আলী বলেন, আদালতের নির্দেশে বিষয়টির তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা যাচাই করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে পারিবারিক এই দ্বন্দ্ব আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

