কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি :
কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পাগলা মসজিদের ১৩টি দানবাক্স প্রায় ছয় মাস পর খোলা হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) সকাল সাড়ে ৭টায় জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে দানবাক্সগুলো খোলা হলে সেখান থেকে ৪৩ বস্তা টাকা পাওয়া যায়। পরে টাকাগুলো মসজিদের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে গণনার কাজ শুরু হয়।
টাকা গণনায় অংশ নেন জামিয়া ইমদাদিয়া মাদ্রাসার ৩০০ জন, পাগলা মসজিদ মাদ্রাসার ১০৬ জন শিক্ষার্থী, রূপালী ব্যাংকের ১৩০ জন কর্মকর্তা, মসজিদের ৩৫ জন কর্মচারী, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ১৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী, ১৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৪০ জন পুলিশ সদস্য, ৮ জন র্যাব সদস্য এবং ২০ জন আনসার সদস্য।
দানবাক্স খোলার সময় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইশতিয়াক ইমন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মো. এরশাদুল আহমেদ এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান মারুফসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
এর আগে গত ২৭ ডিসেম্বর দানবাক্স খুলে রেকর্ড ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা পাওয়া যায়। এছাড়া দানবাক্সে বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালংকার ও হীরাও পাওয়া যায়।
জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, পাগলা মসজিদ ও ইসলামিক কমপ্লেক্সের ব্যয় নির্বাহের পর অবশিষ্ট অর্থ ব্যাংকে জমা রাখা হয়। বর্তমানে সরাসরি দানের ১১৪ কোটি টাকা এবং অনলাইনে প্রাপ্ত ২৪ লাখ ৭৬ হাজার ৮৮২ টাকা ব্যাংকে সংরক্ষিত রয়েছে। এছাড়া দান হিসেবে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালংকার জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিতে সংরক্ষিত আছে।
তিনি আরও জানান, জমাকৃত অর্থ জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় অনুদান প্রদান এবং অসহায় ও জটিল রোগে আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসা সহায়তায় ব্যয় করা হয়।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দানবাক্সের টাকা গণনার কাজ চলছিল। গণনা শেষে মোট প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

