কুড়িগ্রামে সরকারি চাল আত্মসাত মামলায় ৪২ বছর পর মিল মালিকের ১০ বছরের কারাদণ্ড

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

 

সরকারি খাদ্য গুদামে সরবরাহের চুক্তি ভঙ্গ করে প্রায় ৪০ দশমিক ৯৫২ মেট্রিক টন চাল ও ১ হাজার ১২৫টি বস্তা আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কুড়িগ্রামের এক মিল-চাতাল মালিককে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) কুড়িগ্রাম জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত দায়রা জজ মোঃ জয়নাল আবেদীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আসামিকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি মোঃ সিরাজুল ইসলাম। তিনি কুড়িগ্রামের হরিশ্বর কালুয়া গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফের ছেলে এবং ‘লতিফ চাল ও অটোকল’-এর মালিক।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৪ সালে সিরাজুল ইসলাম তৎকালীন কুড়িগ্রাম সরকারি লোকাল সাপ্লাই ডিপো (এলএসডি) গুদামে চাল সরবরাহের জন্য চুক্তিবদ্ধ হন। চুক্তি অনুযায়ী তিনি ৮৬ দশমিক ৩২১ মেট্রিক টন ধান উত্তোলন করেন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রায় ৫৬ মেট্রিক টন চাল জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি মাত্র ১৫ মেট্রিক টন চাল জমা দেন। বাকি প্রায় ৪১ মেট্রিক টন চাল আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে।

পরে এলএসডি কর্তৃপক্ষ তার মিল পরিদর্শন করে কোনো চাল মজুত পায়নি। এ ঘটনায় তৎকালীন খাদ্য নিয়ন্ত্রক বাদী হয়ে কুড়িগ্রাম সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি প্রথমে রংপুর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল, পরে রাজশাহীর আদালতে বিচারাধীন ছিল। পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলাটি কুড়িগ্রাম জেলা জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়। দীর্ঘ ৪২ বছর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত রায় প্রদান করেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মোঃ তারিকুর রহমান তারিক জানান, জামিনে মুক্ত থাকার পর আসামি আর আদালতে হাজির হননি। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলেও তা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। ফলে আদালত তার অনুপস্থিতিতেই রায় ঘোষণা করেন।

তিনি আরও জানান, রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে আদালত আসামির বিরুদ্ধে নতুন করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন। তবে আসামি বর্তমানে জীবিত আছেন কিনা, সে বিষয়ে আদালতের কাছে কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই।

এই রায় সরকারি সম্পদ আত্মসাত সংক্রান্ত মামলার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here