কুড়িগ্রামে বিসিক উদ্যোক্তা মেলায় অনিয়ম–দুর্নীতির অভিযোগ: তদন্তের আশ্বাস জেলা প্রশাসনের

0
141
প্রশাসনের নাকের ডগায় কুড়িগ্রাম বিসিক উদ্যোক্তা মেলার নামে চলছে বাণিজ্য মেলা / ছবি - এই বাংলা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :


নানা অনিয়ম, স্বচ্ছতার অভাব ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে সমালোচনার মুখে পড়েছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) আয়োজিত কুড়িগ্রামের ১০ দিনব্যাপী উদ্যোক্তা মেলা। অভিযোগ রয়েছে—এই মেলায় স্থানীয় উদ্যোক্তাদের গুরুত্ব না দিয়ে বিসিকের উপব্যবস্থাপক নিজের প্রভাব খাটিয়ে বাণিজ্যিক রাইড ও স্টল বরাদ্দকে ব্যক্তিগত আয়ের উৎসে পরিণত করেছেন। এতে মেলার উদ্দেশ্য ও চরিত্র প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

বুধবার সন্ধ্যায় স্থানীয় সাংবাদিকদের অনুসন্ধান ও লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মেলার সব বাণিজ্যিক রাইড বন্ধ করে দেওয়া হলেও অন্যান্য কার্যক্রম চলমান ছিল।

স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জায়গা দখল করলো বাণিজ্যিক স্টল: সরেজমিন দেখা যায়, উদ্যোক্তা মেলা হলেও তাতে নেই স্থানীয় উদ্যোক্তাদের হস্ত ও কুটির শিল্পের সমৃদ্ধ উপস্থিতি। বরং রাজশাহী, সাভার, ঢাকা, বরিশালসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ব্যবসায়ীরা দখল করেছেন অধিকাংশ স্টল।

সরকারি বিধি অনুযায়ী ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ নিয়ে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণে মেলা আয়োজনের কথা থাকলেও ৯৮টি স্টলের মধ্যে স্থানীয় বিসিক–নিবন্ধিত উদ্যোক্তা পেয়েছেন মাত্র ২০টি স্টল। বাকি ৭৮টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে অনিবন্ধিত বাইরের ব্যবসায়ীদের নামে।

একাধিক দোকানি জানান, এসব স্টল ৮–১০ হাজার টাকা পর্যন্ত চুক্তিতে বিক্রি করা হয়। অনেকেই ২–৩টি স্টল নিতে ২০–২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত পরিশোধ করেছেন।

স্টল বরাদ্দে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে—প্রতিটি স্টল থেকে গড়ে ৫–৭ হাজার টাকা কমিশন বাবদ উপব্যবস্থাপক ব্যক্তিগতভাবে প্রায় ৪ লাখ ৬৮ হাজার টাকা নিয়েছেন। এসব অর্থ গ্রহণের কাজটি ‘শ’ আদ্যক্ষরের এক মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
বিশেষ সূত্র বলছে, রংপুরে অবস্থানরত উপব্যবস্থাপক লালমনিরহাটের তিস্তা এলাকায় মধ্যস্থতাকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অগ্রিম অর্থ নেন। তার বিশেষ সহকারী সুমন মিয়া পুরো প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করেন।

এছাড়া নৌকা, ট্রেইন ও বক্সিং পয়েন্টের মতো রাইড থেকেও প্রতিদিন মোটা অঙ্কের টাকা আদায় হয়—যার বড় অংশই উপব্যবস্থাপকের কাছে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

বাণিজ্যিক স্টলগুলোতে প্রায় প্রতিরাতে চুরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। নাইটগার্ড থাকা সত্ত্বেও জামদানী শাড়ি, থ্রিপিস, আংটি ও অন্যান্য পণ্য হারানোর অভিযোগ করেছেন অন্তত কয়েকজন ব্যবসায়ী।

একজন উদ্যোক্তা বলেন, “এটি উদ্যোক্তা মেলা নয়, পুরোপুরি বাণিজ্যিক মেলায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয় উদ্যোক্তারা বাইরে দাঁড়িয়ে, আর বাইরের ব্যবসায়ীরা ভেতরে ভালো জায়গায়।”

মেলার পাশেই রয়েছে স্কুল-কলেজ। বার্ষিক পরীক্ষা চলমান থাকায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অনেকেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

এক শিক্ষার্থী বলেন— “পরীক্ষার সময় স্কুলের পাশে এ ধরনের বাণিজ্যমেলা আয়োজন আমাদের মনোযোগ নষ্ট করছে।”

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) জেলা কমিটির সভাপতি খন্দকার খায়রুল আনাম বলেন,
“মেলায় উদ্যোক্তা নির্বাচনে স্বচ্ছতা ছিল না। প্রচারণাও ঠিকমতো হয়নি। দূরবর্তী ব্যবসায়ীদের মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে তথ্য রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।”

অভিযোগ বিষয়ে উপব্যবস্থাপক শাহ মোহাম্মদ জোনায়েদ বলেন, “মেলায় বাইরের উদ্যোক্তারা আসতে পারবে না—এমন কোনও বাধা নেই। স্থানীয় উদ্যোক্তারা আগ্রহী না হওয়ায় বাইরের ব্যবসায়ীদের আনা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়নি।”
তিনি আরও জানান তিনি ঢাকায় মিটিংয়ে আছেন, ফিরে এসে বিস্তারিত বলবেন।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, “মেলায় অনিয়ম বা দুর্নীতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিভিন্ন অভিযোগ সম্পর্কে আপনাদের কাছ থেকে জানতে পারলাম। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই বাংলা/এমএস

টপিক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here