কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যার আশঙ্কা কিছুটা কমলেও কুড়িগ্রামে নতুন করে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে নদীভাঙন। জেলার ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে বসতভিটা, ফসলি জমি ও গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন নদীর পানি ৫ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। তবে পানি কমলেও নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি এখনও পানির নিচে রয়েছে।
রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের কালির মেলা এলাকার কৃষক মো. রব্বানী ও মো. রহিউদ্দিন জানান, তিস্তার পানি ঢুকে তাদের এক বিঘা জমির বাদাম ক্ষেত তলিয়ে গেছে। দ্রুত পানি না নামলে পুরো ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে সবজি ও আউশ ধানসহ অন্যান্য ফসলেরও ক্ষতির শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
এদিকে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর তীরবর্তী অন্তত ৩০টি পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও ইতোমধ্যে বসতঘর ও আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলো চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. ময়দুল ইসলাম রনি বলেন, “গতকাল থেকে ভারী বৃষ্টিপাত না হওয়ায় নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। স্থানীয়ভাবে নতুন করে অতিবৃষ্টি না হলে আপাতত বন্যার আশঙ্কা নেই।”
অন্যদিকে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, দ্রুত পানি নেমে গেলে নিমজ্জিত ফসলের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা কম থাকবে। কৃষকদের জমি থেকে পানি নেমে যাওয়ার পর প্রয়োজনীয় পরিচর্যা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নদীবেষ্টিত কুড়িগ্রামের ভাঙনকবলিত মানুষ দ্রুত সরকারি সহায়তা এবং টেকসই নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

