কুড়িগ্রামে ঘন্টায় ঘন্টায় লোডশেডিং, চরম বিপাকে এসএসসি পরীক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণ 

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

 

জ্বালানি তেলের সংকটের প্রভাবে উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা কুড়িগ্রামে বেড়েছে লোডশেডিং। বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।

সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। গুরুত্বপূর্ণ এ সময়ে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে তাদের পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। পাশাপাশি বোরো মৌসুমের শেষ পর্যায়ে সেচ সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা। বিদ্যুৎ না থাকায় সেচ কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ঠিকমতো চার্জ দেওয়া যাচ্ছে না, ফলে কমে যাচ্ছে চালকদের আয়। বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল ক্ষুদ্র ব্যবসা ও ফ্রিল্যান্স কাজেও তৈরি হয়েছে স্থবিরতা।

কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলার ৭টি উপজেলায় প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ গ্রাহকের বিপরীতে বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে প্রায় ৯১ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৮০ মেগাওয়াটের কম। ফলে গড়ে প্রায় ২০ শতাংশ লোডশেডিং করতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও দৈনিক ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) কুড়িগ্রাম কার্যালয় জানায়, তাদের আওতায় প্রায় ৩৩ হাজার গ্রাহকের জন্য চাহিদা ১২ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ মিলছে সর্বোচ্চ ৯ মেগাওয়াট।

কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নের জুমারকুটি এলাকার এসএসসি পরীক্ষার্থী মোঃ শাহীন আলম জানায়, পড়তে বসলে হঠাৎ করেই বিদ্যুৎ চলে যায়। কখনো আধা ঘণ্টা, কখনো এক ঘণ্টা পর আসে। এতে প্রস্তুতিতে সমস্যা হচ্ছে।

একই ইউনিয়নের বটতলা এলাকার কৃষক মোঃ সেকেন্দার আলী জানান, সেচের জন্য এখন জমিতে পানির খুব প্রয়োজন। কিন্তু বিদ্যুৎ বারবার চলে যাওয়ায় সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

অটোরিকশা চালক মোঃ হাফিজুল ইসলাম বলেন, আগে একবার চার্জ দিয়ে সারাদিন গাড়ি চালানো যেতো, এখন তা সম্ভব হচ্ছে না। আয় অনেক কমে গেছে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

কুড়িগ্রাম পৌর শহরের ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি গৌতম সেন জানান, সকালে কাজ শুরু করতেই বিদ্যুৎ চলে যায়, ফলে সময়মতো কাজ শেষ করতে সমস্যা হচ্ছে।

ফ্রিল্যান্সার অমিত পাল বলেন, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে সময়মতো কাজ জমা দিতে পারছি না, এতে বায়ারদের কাছে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গরম পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই এমন পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। তারা দ্রুত সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মোঃ শামিম পারভেজ বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। ফলে লোডশেডিং বেড়েছে। তবে পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here