কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কুড়িগ্রাম জেলার পশুর হাটগুলোতে উঠতে শুরু করেছে বিপুল সংখ্যক গবাদিপশু। তবে প্রত্যাশিত ক্রেতা না থাকায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ছোট-বড় খামারিরা। বিশেষ করে জেলার অন্যতম বৃহৎ পশুর হাট সদর উপজেলার যাত্রাপুর হাটে ক্রেতা সংকট এখন সবচেয়ে বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবছর কুড়িগ্রামে কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৩৬ হাজার গবাদিপশু। এর বিপরীতে কুড়িগ্রাম জেলায় চাহিদা রয়েছে প্রায় ২ লাখ ৬১ হাজার পশুর। কুড়িগ্রাম জেলার ৯টি উপজেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে মোট পশুর হাট রয়েছে ২৯টি। এর মধ্যে ১৫টি স্থায়ী এবং ১৪টি অস্থায়ী হাট।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার যাত্রাপুর পশুর হাটে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা বিক্রেতাদের পাশাপাশি চরাঞ্চলের খামারিরাও গরু নিয়ে অবস্থান করছেন। হাটজুড়ে গরুর সারি থাকলেও তুলনামূলকভাবে ক্রেতার উপস্থিতি অনেকটা কম। ফলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত দাম তো দূরের কথা, অনেকেই গরু বিক্রি করতে পারছেন না।
এদিকে খামারিরা বলছেন, কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে আসলেও বাজারে কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা না আসায় তারা আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। বিশেষ করে চরাঞ্চলের অনেক পরিবার সারা বছর গরু লালন-পালন করে ঈদের সময় বিক্রির টাকার ওপর নির্ভরশীল। তাই পশুর ন্যায্যমূল্য না পেলে তারা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে আশঙ্কা করছেন।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, এক বছর ধরে অনেক কষ্ট করে গরু পালন করছি। খাবারের দাম, ওষুধের খরচ সবকিছুই বেড়েছে। কিন্তু হাটে ক্রেতা কম, যে দাম বলছে তাতে খরচই উঠবে না। আরেক বিক্রেতা জলিল মিয়া বলেন, সকালে গরু নিয়ে হাটে আসছি, এখনো ভালো কোনো ক্রেতা পাইনি। সবাই শুধু দেখে যাচ্ছে, কিনছে কম। হাটে আসা কয়েকজন ক্রেতা জানান, বাজারে গরুর দাম এখনো তুলনামূলক বেশি। তাই অনেকে শেষ সময়ের অপেক্ষায় রয়েছেন।
ক্রেতা মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, গরু অনেক আছে, কিন্তু দাম এখনো নাগালের মধ্যে আসেনি। তাই দেখে যাচ্ছি, আরেকটু সময় নিয়ে কিনবো।
কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার যাত্রাপুর হাটের ইজারাদারের সহযোগী মোঃ রহিম উদ্দিন হায়দার রিপন বলেন, হাটে পর্যাপ্ত পশু রয়েছে। তবে এখনো ক্রেতা কম থাকায় বেচাকেনা আশানুরূপ হচ্ছে না। আশা করা হচ্ছে আগামীতে পশু বিক্রি বৃদ্ধি পাবে।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, কুড়িগ্রাম জেলায় কোরবানির পশুর পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। ঈদের সময় যত ঘনিয়ে আসবে, হাটে ক্রেতার উপস্থিতিও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। আমাদের দপ্তর থেকে প্রতিটি হাটে মেডিকেল টিম কাজ করছে।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

