কুড়িগ্রামের এক বাজারে ৫০ বছর ধরে গরুর মাংস বিক্রি বন্ধ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ডাকনীরপাঠ বাজারে গরুর গোশত বিক্রি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা স্থানীয়ভাবে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে নিষ্পত্তি হলেও একটি মহলের অপপ্রচারে আবারও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে একটি অনলাইন সংবাদ প্রকাশের পর এলাকায় নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা ও গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ডাকনীরপাঠ বাজারটি মূলত মন্দিরসংলগ্ন একটি ঐতিহ্যবাহী বাজার। বাজারটির চারপাশে অধিকাংশ হিন্দু পরিবারের বসবাস এবং দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর ধরে সেখানে কখনোই গরুর গোশত বিক্রি হয়নি। স্থানীয়দের ভাষ্য, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতেই এ প্রথা চালু ছিল।

তবে সম্প্রতি একটি স্বার্থান্বেষী মহলের ইন্ধনে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী হঠাৎ করে মন্দিরসংলগ্ন দোকানে গরুর গোশত বিক্রি শুরু করলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে মুসলিম-হিন্দু মিলেমিশে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছেন এবং পারস্পরিক সম্মানের জায়গা থেকেই এ বাজারে কখনো গরুর মাংস বিক্রি হয়নি।

স্থানীয়রা আরও জানান, মাত্র এক কিলোমিটার দূরেই ভিতরবন্দ বাজার ও ব্যাপারীহাট বাজারে নিয়মিত গরুর গোশত বিক্রি হয়, ফলে চাহিদা পূরণে কোনো সমস্যা ছিল না।

এ পরিস্থিতিতে গত মঙ্গলবার দুই গোশত ব্যবসায়ী মোঃ আব্দুল সালাম ও মোঃ আব্দুস সিদ্দিক এবং ডাকনীরপাঠ মসজিদ মার্কেটের মালিক মোঃ আজিজুল হককে নাগেশ্বরী থানায় ডেকে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। তবে এ বিষয়ে নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আব্দুল্লা হিল জামান জানান, থানায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে মার্কেট মালিক নিজেই এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বিবেচনায় গরুর গোশত বিক্রি না করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

নাগেশ্বরী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ গোলাম রসুল রাজা বলেন, “স্থানীয়দের মধ্যে গুঞ্জন ও অভিযোগ থাকায় উভয় পক্ষকে আলোচনায় বসানো হয়। আমরা কোনোভাবেই হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে সম্প্রীতি নষ্ট হোক তা চাই না। সবার সম্মতিতে দীর্ঘদিনের প্রথা বজায় রেখে ওই বাজারে গরুর গোশত বিক্রি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

ভিতরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ শফিউল আলম শফি জানান, “মন্দিরসংলগ্ন হওয়ায় ঐ বাজারে দীর্ঘদিন গরুর গোশত বিক্রি হয়নি। হঠাৎ করে বিক্রি শুরু হওয়ায় গুঞ্জন তৈরি হয়। পরে উভয় পক্ষের আলোচনায় বিষয়টির সমাধান হয়েছে। একটি মহল এখন বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।”

স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ঐতিহ্য রক্ষার স্বার্থে মার্কেট মালিক মোঃ আজিজুল হক নিজ ইচ্ছায় ভাড়াটিয়াকে অন্য ব্যবসা করার অনুরোধ জানান। তিনি প্রয়োজনে দোকান ভাড়া না দেওয়ার কথাও জানান। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীও ভবিষ্যতে আর গরুর গোশত বিক্রি করবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দেন।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের অভিমত, এটি সম্পূর্ণভাবে আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তিকৃত একটি বিষয়। কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি বা পুলিশ প্রশাসন এতে জড়িত নয়। বরং একটি মহল ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দিয়ে বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে।

এলাকাবাসী মনে করেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এ উজ্জ্বল দৃষ্টান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা বন্ধ হওয়া জরুরি। অন্যথায় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here