ঝালকাঠি প্রতিনিধি :
ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার বলতলা গ্রামে জমি বন্ধক দেওয়ার পর তা জবরদখল করে বসবাস করার অভিযোগ উঠেছে সোলায়মান সরদার নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শারীরিক প্রতিবন্ধী খোকন তার পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমির একটি অংশ খাইখালাসি (বন্ধক) দিয়ে অর্থ গ্রহণ করেছিলেন। দীর্ঘদিন পর জমি ফেরত না পেয়ে স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। বর্তমানে এ বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবন্ধী খোকন তার মালিকানাধীন খালের পাড়সংলগ্ন (রাস্তার বাইরের অংশে) দুই কাঠা জমি ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে সোলায়মান সরদারের কাছে খাইখালাসি দেন। শর্ত অনুযায়ী সোলায়মান সেখানে ঘর নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন। তবে বন্ধকের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি জমি ফেরত না দিয়ে বরং রাস্তার ভেতরের অংশে অবস্থিত খোকনের নির্মিত ঘরও দখল করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, খোকনের শারীরিক প্রতিবন্ধিতার সুযোগ নিয়ে সোলায়মান দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক জমিতে অবস্থান করছেন। জমি ও ঘর ফেরত চাইতে গেলে তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার শালিস-বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
উপায়ান্তর না পেয়ে খোকন আদালতে মামলা দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী খোকন বলেন, “আমি একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী মানুষ। পৈতৃক জমিটুকু দখল হয়ে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছি। আমি আমার জমি ফেরত পেতে আইন ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
অভিযুক্ত সোলায়মান সরদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “খোকন আমাকে দুই কাঠা জমি বিক্রি করার কথা বলে দেড় লাখ টাকা নিয়েছেন। এ বিষয়ে ১০০ টাকার স্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তিও রয়েছে। কিন্তু এখন দলিল করে দিচ্ছেন না। এ কারণেই আমি তার ঘরে বসবাস করছি।”
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

