ঐতিহ্যের পুনরাগমন: প্যাডেল স্টিমার ‘পিএস মাহসুদ’ পর্যটক সার্ভিস

0
159
বাংলাদেশের নৌ ঐতিহ্যের গর্ব ‘পিএস মাহসুদ’ / ছবি - সংগৃহীত

বরিশাল প্রতিনিধি :

দেশের নৌ–ঐতিহ্যের অন্যতম স্মারক প্যাডেল স্টিমার ‘পিএস মাহসুদ’ আবারও যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে। তবে এবার এটি নিয়মিত যাত্রীবাহী সার্ভিস নয়, বরং সীমিত পরিসরে পর্যটক নৌসেবা হিসেবে চলবে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

আজ সকালে সদরঘাটে নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন স্টিমারটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনী যাত্রায় নিমন্ত্রিত অতিথিদের নিয়ে জাহাজটি মুন্সিগঞ্জ–চাঁদপুর মোহনা পর্যন্ত ঘুরে দুপুরে আবার সদরঘাটে ফিরে আসবে।

আগামী ২১ নভেম্বর থেকে এটি নিয়মিত পর্যটক সার্ভিস হিসেবে চলাচল শুরু করবে। নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী— প্রতি শুক্রবার সকাল ৮:৩০ মিনিটে ঢাকা থেকে ছাড়বে এবং বিকেল ৫:৩০–এ বরিশালে পৌঁছাবে। প্রতি শনিবার সকাল ৮:৩০ মিনিটে বরিশাল থেকে ছেড়ে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ঢাকায় ফিরবে।

ঐতিহাসিক রকেট স্টিমার সার্ভিস, যা ১৮৭৪ সালে চালু হয়েছিল, দীর্ঘদিন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের নৌ–যাতায়াতের প্রধান ভরসা ছিল। কিন্তু ২০২০ সালের আগেই সার্ভিসটি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, জনসেবা নিয়ে অনাগ্রহের কারণেই ঐতিহ্যের এই ধারা থেমে গিয়েছিল।

‘পিএস মাহসুদ’ চালু হলেও যাত্রীভাড়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি। স্টিমারের প্রথম শ্রেণীতে এয়ার–কন্ডিশনড ১২টি কক্ষে ২৪টি শয্যা, আর দ্বিতীয় শ্রেণীতে রয়েছে আরও ২৪টি সাধারণ শয্যা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রথম শ্রেণীর ভাড়া জনপ্রতি ৪ হাজার টাকার বেশি হতে পারে।

তুলনায়, ২০২০ সালে রকেট সার্ভিস বন্ধ হওয়ার সময় এই রুটে প্রথম শ্রেণীর ভাড়া ছিল ১২০০ টাকা। বর্তমানে বেসরকারি লঞ্চে একই শ্রেণীর ভাড়া প্রায় ১ হাজার টাকা। তাই বরিশালবাসীর দাবি—ঐতিহ্যের নাম তুলে ভাড়া অতিরিক্ত বাড়ানো যাবে না, সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশের মধ্যে রাখতে হবে।

যদিও এটি সাধারণ যাতায়াতের জন্য নয়, তবুও ঢাকার সঙ্গে বরিশালের নৌ পথে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের পুনরুজ্জীবনে অনেকেই সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

সম্প্রতি বরিশালে এক মতবিনিময় সভায় নৌপরিবহন উপদেষ্টা জানান, বিআইডব্লিউটিসির বহরে থাকা চারটি প্যাডেল স্টিমারের মধ্যে অন্তত দুটি দ্রুত পুনরায় সচল করার পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে এগুলোকে ঢাকা–চাঁদপুর–বরিশাল রুটে যাত্রী পরিবহনেও যুক্ত করা হতে পারে।

উল্লেখ্য, দেশে বর্তমানে মাত্র চারটি প্যাডেল স্টিমার টিকে আছে, যার একটি ‘পিএস মাহসুদ’। অন্যদিকে ‘পিএস অস্ট্রিচ’ বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এটি নতুন করে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ চলছে—যা নিয়ে সমালোচনা রয়েছে।

নৌ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ঐতিহ্য রক্ষায় সরকারি পদক্ষেপ আরো জোরদার করা জরুরি। তাদের পরামর্শ, ঐতিহাসিক এই নৌযানগুলো সংরক্ষণ করে ইউনেস্কোর কাছে বিশ্ব ঐতিহ্য স্বীকৃতি অর্জনের প্রচেষ্টা নেওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দেশের নৌ–ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here