নীলফামারী প্রতিনিধি :
নীলফামারী সদর উপজেলার কুন্দপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সাজ্জাদ আলম সাইনুলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (৯ নভেম্বর) রাত ৯টার দিকে নিজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের দুই-তিন দিন পর নীলফামারী শহরে নিষিদ্ধ ঘোষিত ইসকন সংগঠনের উদ্যোগে একটি বড় মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। দেশব্যাপী আয়োজিত ওই কর্মসূচির অংশ হিসেবে নীলফামারীতেও মিছিলটি হয়, যেখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের বহু মানুষ অংশ নেন।
অভিযোগ রয়েছে, চেয়ারম্যান সাজ্জাদ আলম সাইনুল নিজ উদ্যোগে কুন্দপুকুর ও আশপাশের এলাকা থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে ভ্যান ও থ্রি-হুইলার অটোরিকশায় শহরে পাঠিয়ে মিছিলে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করেন। স্থানীয়দের দাবি, তার নির্দেশে কয়েক শ’ মানুষ ওই মিছিলে যোগ দেন।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের মন্তব্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই এমন বিতর্কিত ব্যক্তিদের সক্রিয়তা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করছে।
সম্প্রতি সরকারের নির্দেশে ধর্মীয় উগ্রবাদ ও সাম্প্রদায়িক বিভেদ ছড়ানোর অভিযোগে ইসকন সংগঠনকে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালের জানুয়ারিতে সাংবাদিক পিতা মো. জহুরুল ইসলাম হত্যা মামলায় সাজ্জাদ আলম সাইনুল চার্জশিটভুক্ত আসামি (মামলা নং: এসসি/১২১/১২)। মামলাটি বর্তমানে নীলফামারী অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ এ রায় পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া নীলফামারী থানায় তার বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা চলছে, যার বাদী মশিউর রহমান।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সাইনুলকে দীর্ঘদিন ধরে সহায়তা করে আসছেন কুন্দপুকুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বিএনপির পদধারী আব্দুল জলিল এবং পদবিহীন রাজনৈতিক কর্মী জসিদুল জসি, যিনি সাইনুলের ছোট ভগ্নিপতি ও আওয়ামী পরিবারের জামাতা। অভিযোগ রয়েছে, ২০১১ সালের হত্যাকাণ্ডে সাইনুল, জসি ও আরও ২০ জন একত্রে জহুরুল ইসলামকে কুঠার দিয়ে আঘাত করেন এবং মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে আটকে রাখেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত ৭–৮ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
অন্যদিকে, স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অতীতে একাধিক দল পরিবর্তন করে বর্তমানে বিএনপিতে যোগ দেওয়া আব্দুল গনি নামের একজন ব্যক্তির সঙ্গেও সাইনুলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। সম্প্রতি এই গোষ্ঠীর কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও জানা গেছে।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

