রাজশাহী ব্যুরো :
ইমারত নির্মাণ বিধিমালা (বিল্ডিং কোড) লঙ্ঘনের অভিযোগে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) দফতরে প্রায় প্রতিদিনই অভিযোগপত্র জমা পড়ছে। নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণের কারণে আশপাশের স্থাপনা ও বাসিন্দারা ঝুঁকিতে পড়লেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কার্যকর কোনো প্রতিকার মিলছে না। ফলে রাজশাহী নগরীতে দিন দিন বাড়ছে নকশাবহির্ভূত ও ঝুঁকিপূর্ণ বহুতল ভবনের সংখ্যা।
ভুক্তভোগী নগরবাসীদের অভিযোগ, পাঁচতলার অনুমোদন নিয়ে সাততলা এবং সাততলার অনুমোদন নিয়ে ১০ তলা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। ভবনের উচ্চতা অনুযায়ী রাস্তা ও ফাঁকা জায়গা ছাড়ার যে বিধান রয়েছে, তা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মানা হচ্ছে না। এমনকি সড়ক ঘেঁষে ভবন নির্মাণ করায় স্বাভাবিক চলাচল ও জরুরি সেবাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
ঠিক এমনই অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী নগরীর মতিহার থানাধীন কাজলা সুইটের মোড় এলাকায় গোলাম মুস্তফা তালিকদারের স্ত্রী শামসুল নাহারের নির্মাণাধীন বহুতল ভবনকে ঘিরে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবনটি নির্মাণে নকশা ও ইমারত বিধিমালা লঙ্ঘন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিনে পরিদর্শনে জানা যায়, ভবনটির দক্ষিণ-পূর্ব পাশে একটি সরু গলি রয়েছে, যেটি দিয়ে শতাধিক পরিবারের মানুষ যাতায়াত করে। অভিযোগ রয়েছে, শামসুল নাহার নিজের জমির বাইরে রাস্তার অংশ দখল করে ভবন নির্মাণ করেছেন। এছাড়া ভবনের কার্নিস বাড়িয়ে রাস্তার ওপর নিয়ে আসায় গলির প্রবেশমুখ আরও সংকুচিত হয়ে গেছে।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
স্থানীয়দের আশঙ্কা, অগ্নিকাণ্ড বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে ফায়ার সার্ভিসসহ জরুরি সেবা সংস্থার যানবাহন ওই এলাকায় প্রবেশ করতে পারবে না। ফলে বড় ধরনের প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভবন নির্মাণের সময় কোনো ফাঁকা জায়গা রাখা হয়নি, এক ভবনের সঙ্গে আরেকটি ভবন প্রায় লেগে রয়েছে। অধিকাংশ ভবনেই নেই প্রয়োজনীয় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা। অথচ ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী সাততলার বেশি উচ্চতার ভবনে অগ্নি শনাক্তকরণ যন্ত্র, ধোঁয়া শনাক্তকারী, স্বয়ংক্রিয় পানি ছিটানোর ব্যবস্থা এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মমেনা বেগমের নাতি পাভেল ইসলাম মিমুল বলেন, “শামসুল নাহারের মেয়ে জামাই নাহিদ হাসানকে একাধিকবার অনুরোধ করেও কোনো কাজ হয়নি। তিনি নিজেকে প্রভাবশালী দাবি করে থানায় মিথ্যা অভিযোগ ও পুলিশের ভয় দেখাচ্ছেন। কাজ বন্ধের কথা বললে হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং টাকা দিয়ে সব ম্যানেজ করেই প্রকাশ্যে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাকে ও তার পরিবারকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে শামসুল নাহার ও তার মেয়ে জামাই নাহিদ হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও একাধিকবার ফোন দেওয়া সত্ত্বেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আরডিএর অথরাইজড অফিসার আব্দুল্লাহ আল তারিক বলেন, “ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অমান্য করে ভবন নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।”
এদিকে এলাকাবাসী দ্রুত সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে অনিয়ম বন্ধ হয়ে নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

