কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি :
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় সরকারি খাস জমি দখলের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন চ্যানেল ওয়ানের রিপোর্টার আবু সাঈদ অপু। এ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী (গ্রেনেট বাবু)-এর বিরুদ্ধে প্রায় ১২ কোটি টাকা মূল্যের সরকারি খাস জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং সম্প্রতি তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
রোববার দুপুরে ওই জমি সংক্রান্ত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরির জন্য ঘটনাস্থলে যান চ্যানেল ওয়ানের রিপোর্টার আবু সাঈদ অপু ও ক্যামেরাম্যান তাজুল ইসলাম। স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণের সময় চেয়ারম্যানের অনুসারীরা তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা সাংবাদিক ও ক্যামেরাম্যানকে মারধর করে এবং পিটু ক্যামেরা, ট্রাইপড ও লাইভ ডিভাইস ছিনিয়ে নেয়। এতে সাংবাদিক আবু সাঈদ অপু আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
এ ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শী মিনারুল ইসলাম বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ থানায় চেয়ারম্যানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করেছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
নীলফামারী জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক আল আমিন হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক একেএম তাজুল ইসলাম ডালিমও সাংবাদিকদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
আহত সাংবাদিক আবু সাঈদ অপু বলেন, “তথ্য সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণ শেষে ফেরার সময় চেয়ারম্যানের লোকজন অতর্কিত হামলা চালায়। তারা ক্যামেরার লেন্স ভাঙচুর করে এবং বিভিন্ন সরঞ্জাম ছিনিয়ে নিয়ে যায়।”
কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান জানান, সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় একটি এজাহার পাওয়া গেছে। আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মামলা রুজু ও তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

