কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় আলিম পরীক্ষায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কেন্দ্র সচিব ও পরীক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
বরখাস্ত হওয়া কেন্দ্র সচিব মাওলানা মো. আলতাফ হোসাইন ভূরুঙ্গামারী ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এবং আলিম পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব। অপরদিকে ট্যাগ অফিসার মো. সাইফুর রহমান মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের একাডেমিক সুপারভাইজার।
জানা গেছে, বুধবার (২৯ জুলাই) আলিম পরীক্ষার বিজ্ঞান বিভাগের রসায়ন প্রথম পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় নাগেশ্বরী কামিল মাদ্রাসার এক অনিয়মিত পরীক্ষার্থী মো. জাকিরুল ইসলামকে ভুলবশত নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়।
প্রায় এক ঘণ্টা পরীক্ষা চলার পর কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে বিষয়টি জানতে পারেন ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেব নাথ। পরে নাগেশ্বরী উপজেলা থেকে অনিয়মিত পরীক্ষার্থীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নপত্র এনে অতিরিক্ত সময় দিয়ে তার পরীক্ষা নেওয়া হয়।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কেন্দ্র সচিব ও ট্যাগ অফিসারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা মো. মাহবুবুল আলমকে কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে কেন্দ্র সচিব মাওলানা মো. আলতাফ হোসাইন বলেন, “অনিয়মিত ওই পরীক্ষার্থীর প্রশ্নপত্র আমাদের কেন্দ্রে পাঠানো হয়নি। প্রশ্নপত্রটি নাগেশ্বরী কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ছিল। পরে কেন্দ্র পরিবর্তন হলেও সেখান থেকে প্রশ্নপত্র পাঠানো হয়নি।”
উল্লেখ্য, চলতি আলিম পরীক্ষায় নাগেশ্বরী কামিল মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীরা ভূরুঙ্গামারী কেন্দ্রে এবং ভূরুঙ্গামারীর পরীক্ষার্থীরা নাগেশ্বরী কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছেন।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেব নাথ বলেন, “পরে সঠিক প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে ওই পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার কারণে সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।”

