আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়া নেতাকর্মীদের ‘বুক ফুলিয়ে চলাফেরা’র নির্দেশ ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতির

0
283
আঃ লীগ নেতাকর্মীদের বুক ফুলিয়ে চলাফেরার নির্দেশনা দেন বিএনপি নেতা মোঃ আবুল কালাম আজাদ সরকার / ছবি - এই বাংলা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়া নেতাকর্মীদের ভয়হীনভাবে বুক ফুলিয়ে হাট-বাজারে চলাফেরা করার নির্দেশনা দিয়েছেন কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার আন্ধারীরঝাড় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদ সরকার।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাতে আন্ধারীরঝাড় ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে আয়োজিত এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। তার বক্তব্যের একটি ভিডিও ক্লিপ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।

সভায় সদ্য বিএনপিতে যোগ দেওয়া আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন,
“আজকে আমি বলতে চাই—আন্ধারীরঝাড় ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে যতজন আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন, আগামী পরশু থেকেই আপনারা হাটে, ঘাটে, বাজারে বুক ফুলিয়ে চলাফেরা করবেন। চুল পরিমাণ টুঁ শব্দ কেউ করবে না।”

তিনি আরও বলেন, “আজ যারা আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগদান করেছেন, তারা ভয় পাচ্ছেন—এটা আমি বুঝি। তাই আগে আমি আপনাদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে চাই। এখন আপনাদের কোনো ভয় বা সংশয় আছে কি?”

এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা ‘না’ সূচক সাড়া দেন।

সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ওই বিএনপি নেতা ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে ‘মিউচুয়াল’ করার দাবিও করেন। তিনি বলেন, “আমি আগামীকাল ওসির সঙ্গে বসবো। তার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। বসে মিউচুয়াল করে নেবো। আমার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের একজন আওয়ামী লীগের কর্মীকেও যেন ধরা না হয়। আপনারা অবাধে চলাফেরা করবেন। যদি পুলিশ ধরে, তার দায় আমি নেবো।”

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

নিজের প্রভাব ও পরিচিতি তুলে ধরে মো. আবুল কালাম আজাদ সরকার বলেন, “ভূরুঙ্গামারী-নাগেশ্বরী উপজেলার ২৫টি ইউনিয়নের ২৫ জন সভাপতির মধ্যে এসপি সাহেব আমাকে বাই নেমে চেনেন, ডিসি সাহেব বাই নেমে চেনেন, ওসি সাহেবও বাই নেমে চেনেন। শুধু তাই নয়, কুড়িগ্রাম-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী আলহাজ মো. সাইফুর রহমান ২৫টি ইউনিয়নের মধ্যে মাত্র দুইজনকে সবচেয়ে কাছের মনে করেন—তার মধ্যে একজন আমি।

কুড়িগ্রাম-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী আলহাজ মো. সাইফুর রহমান রানা-কে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “বিএনপি প্রার্থী বিজয়ী হলে ২০২৬ সালের ছয় মাসের মধ্যে এলাকার রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করা হবে।”

তিনি আরও দাবি করেন, “প্রত্যেক পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবে। প্রতিমাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা পাবে—হয় টাকা নেবে, না হয় মাল নেবে। ওরা (জামায়াত) আখেরাতে বেহেশতের টিকিট দেবে, আর আমরা নগদে বিশ্বাসী।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আন্ধারীরঝাড় ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদ সরকারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. শহিদুল ইসলাম আকন্দ বলেন, “বিষয়টি আমি জেনেছি। এটি তার ব্যক্তিগত বক্তব্য, দলের কোনো সিদ্ধান্ত বা বক্তব্য নয়। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি বলেন, “ওই বিএনপি নেতাকে আমি চিনি না, নামও শুনিনি। তার বক্তব্য সম্পর্কে ওসির কাছে খোঁজ নেবো। তবে তার আশ্বাসের কারণে পুলিশের কাজে কোনো প্রভাব পড়বে না। পুলিশ আইন অনুযায়ী কাজ করবে।”

ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিম উদ্দিন বলেন, “ওই বিএনপি নেতার সঙ্গে এ বিষয়ে আমার কোনো কথা হয়নি। আমরা কারও কথায় কাজ করি না। সরকারি দায়িত্ব পালন করছি। আজও ওই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে আওয়ামী লীগের এক পলাতক ওয়ার্ড সেক্রেটারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপরাধী যেই হোক, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here