হরমুজ প্রণালিতে টোল আদায়ের অনুমতি পেল ইরান-ওমান

পাবনা প্রতিনিধি :

 

গত কয়েক দশক ধরে পুরো দুনিয়াকে চোখ রাঙিয়ে আসা পশ্চিমা পরাশক্তিগুলোর অহংকার আজ কীভাবে মাটিতে মিশে যাচ্ছে? হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন! বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে এখন থেকে টোল বা রাজস্ব আদায়ের আনুষ্ঠানিক অনুমতি পেয়ে গেছে ইরান এবং ওমান।

আর এই খবর শোনার পর থেকেই আমেরিকা এবং তাদের সবচেয়ে আদরের মিত্র অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের ঘুম হারাম হয়ে গেছে! রীতিমতো চোখে সর্ষে ফুল দেখছে তারা!

একটু শান্ত হয়ে ভাবুন তো! এতদিন ধরে আমেরিকা আর ইসরাইল পুরো দুনিয়ার সাগর-মহাসাগরকে নিজেদের বাপ-দাদার সম্পত্তি মনে করে আসছিল। তারা যখন খুশি যার ওপর স্যাংশন (নিষেধাজ্ঞা) দেয়, যাকে খুশি চোখ রাঙায়, মুসলিম দেশ গুলোকে ভয় দেখিয়ে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার করে।

কিন্তু এবার? এবার তাদের নিজেদের বাণিজ্য জাহাজ বা তেলের ট্যাংকারকেই ওই পথ দিয়ে যেতে হলে ইরানের কাছে মাথা নত করে, পকেটের টাকা গুনে টোল দিয়ে যেতে হবে! এর চেয়ে বড় অপমান আর কী হতে পারে একটা তথাকথিত অহংকারী পরাশক্তির জন্য?

হরমুজ প্রণালি আসলে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা হয়তো আপনারা অনেকেই জানেন। প্রতিদিন সারা বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ এই একটি মাত্র সরু পথ দিয়ে পার হয়। সহজ ভাষায়, এই পথটা বন্ধ হয়ে গেলে বা এখানে কোনো ঝামেলা হলে পুরো ইউরোপ আর আমেরিকার গাড়িঘোড়া, কলকারখানা সব স্তব্ধ হয়ে যাবে।

এতদিন এই পথে কোনো টোল ছিল না। কিন্তু এখন আন্তর্জাতিক মেরিটাইম নিয়ম মেনেই ইরান এবং ওমান এই টোল আদায়ের অধিকার পেয়েছে। এর মানে কী দাঁড়াল? এর মানে হলো, মুসলিম বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দেশ ইরান এখন এই বিশাল বিশ্ব-অর্থনীতির একটা বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করবে এবং পশ্চিমাদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

আমেরিকা বছরের পর বছর ধরে ইরানের ওপর হাজারো নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে তাদের অর্থনীতিকে পঙ্গু করার চেষ্টা করেছে। ইসরাইল সারাক্ষণ পর্দার আড়ালে থেকে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ তৈরি করে ফায়দা লুটার চেষ্টা করেছে। কিন্তু আজ তাদের সেই জঘন্য ষড়যন্ত্রের গালে এক বিরাট চপেটাঘাত! ইরান আজ গোটা বিশ্বকে প্রমাণ করে দিয়েছে, যদি আপনি আপনার সিদ্ধান্তে শক্ত থাকেন এবং মাথা নত না করেন, তবে দুনিয়ার কোনো পরাশক্তিই আপনাকে দাবিয়ে রাখতে পারবে না।

আপনারা একটু গভীর ভাবে বিশ্লেষণ করলেই দেখবেন, মধ্যপ্রাচ্যে এখন আর আমেরিকা বা ইসরাইলের সেই আগের দাপট নেই। তারা এখন চারদিক থেকে কোণঠাসা। তাদের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, তাদের ফাঁকা অহংকার—সবকিছুই যেন আজ বুমেরাং হয়ে তাদের দিকেই ফিরে আসছে। এতদিন তারা ভেবেছিল মুসলিমরা বুঝি চিরকাল দুর্বল থাকবে। কিন্তু ইরান ও ওমানের এই যৌথ পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে, মুসলিম দেশগুলো নিজেদের অধিকার আদায়ে এক হলে দুনিয়ার কোনো অপশক্তি তাদের সামনে দাঁড়াতে পারবে না।

এখন প্রশ্ন হলো, আমেরিকা আর ইসরাইল এখন কী করবে? তারা হয়তো বরাবরের মতোই তাদের কেনা মিডিয়ায় বড় বড় কথা বলবে, নতুন কোনো মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াবে, কিংবা স্যাংশনের নতুন কোনো হাস্যকর নাটক সাজাবে। কিন্তু দিনের শেষে চরম বাস্তবতা হলো, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখন আর তাদের হাতে নেই। নিজেদের বোনা অহংকারের জালে আজ তারা নিজেরাই আটকে ছটফট করছে।

অন্যদিকে, এই টোল আদায়ের ফলে ইরানের অর্থনীতিতে যে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার আগমন ঘটবে, তা দিয়ে তারা নিজেদের সামরিক ও প্রযুক্তিগত দিক আরও বহুগুণ শক্তিশালী করবে। আমেরিকার দেওয়া স্যাংশন এখন স্রেফ কাগজের টুকরো ছাড়া আর কিছুই নয়।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here