বরিশাল প্রতিনিধি :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল এখনো ঘোষণা হয়নি। তবে আসন্ন ভোটযুদ্ধকে সামনে রেখে বরিশাল জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
দলের কেন্দ্রীয় নেতা থেকে শুরু করে স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতা এবং পদবিহীন প্রভাবশালীরাও এবার ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশালের ছয়টি আসনে অর্ধশতাধিক নেতা আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে মাঠে কাজ শুরু করেছেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর থেকেই সম্ভাব্য প্রার্থীরা কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছেন এবং নিজ নিজ আসনে জনসংযোগ, কর্মীসভা ও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
বরিশাল-১ (আগৈলঝাড়া–গৌরনদী)
এই আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী তিন নেতা— বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য প্রকৌশলী আব্দুস সোবাহান এবং বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান।
বরিশাল-২ (উজিরপুর–বানারীপাড়া)
মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু, মোহাম্মদ দুলাল হোসেন, দেলোয়ার হোসেন, কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশবিষয়ক সহ-সম্পাদক কাজী রওনুকুল ইসলাম টিপু এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইদ মাহামুদ জুয়েল।
বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ–মুলাদী)
এই আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান এবং কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন প্রার্থী হতে আগ্রহী।
বরিশাল-৪ (হিজলা–মেহেন্দীগঞ্জ)
মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ এবং কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান।
বরিশাল-৫ (সদর)
এই মর্যাদাপূর্ণ আসনে বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা প্রার্থী হতে চান। তাদের মধ্যে রয়েছেন তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মজিবর রহমান সরোয়ার, উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ, এবায়েদুল হক চাঁন, সাবেক বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবুল কালাম শাহিন এবং মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিন। তবে মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার পরবর্তীতে প্রার্থিতা থেকে সরে এসে ভবিষ্যতে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ)
এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হতে চান বরিশাল জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হোসেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম খান রাজন এবং কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর শিকদার বাদল।
লবিং–তদবির ও গ্রুপিং বেড়েছেঃ
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, মনোনয়নপ্রত্যাশীরা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে লন্ডন ও ঢাকায় বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ রাখছেন। কেন্দ্রের কাছে নিজেদের জনপ্রিয়তা প্রমাণে সক্রিয় রয়েছেন তারা। এদিকে প্রতিটি আসনে একাধিক প্রার্থী থাকায় স্থানীয় বিএনপিতে গ্রুপিং ও অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রকট আকার ধারণ করেছে। কেউ কারও সঙ্গে দেখা–সাক্ষাৎ তো দূরের কথা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে একে অপরের বিরুদ্ধে সমালোচনা।
বিষয়টি নিয়ে বিব্রত বিএনপির হাইকমান্ড। এরইমধ্যে ঢাকায় কয়েক দফা বৈঠকে বরিশালের তিনটি আসনের কিছু প্রার্থীকে “গ্রিন সিগন্যাল” দেওয়া হয়েছে বলেও সূত্র জানিয়েছে। বরিশাল-১ থেকে জহির উদ্দিন স্বপন, বরিশাল-৩ থেকে অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন এবং বরিশাল-৪ থেকে রাজিব আহসানকে মাঠে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে অন্য মনোনয়নপ্রত্যাশীরা বিষয়টি গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
পর্যবেক্ষণে হাইকমান্ডঃ
কেন্দ্রীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বরিশালের ছয়টি আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকা হাতে পেয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। হাইকমান্ড থেকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে কারা মাঠে সক্রিয় ও জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন।
তবে দলীয় ঐক্য রক্ষায় সব পক্ষকেই সংযত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এই বাংলা/এমএস
টপিক
