চরভদ্রাসনে প্রকাশ্য রাতেপাখি শিকারের নামে শট গানের মহড়া পুলিশ নির্বাক

0
123
ছবি - সংগৃহীত

চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি :


ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার খালাসি ডাংগী গ্রামে রাতে প্রকাশ্যে শটগান নিয়ে মহড়ার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পাখি শিকারির নাম করে দুই ব্যক্তি অস্ত্র হাতে মহড়া দিলেও পুলিশ প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খালাসি ডাংগী গ্রামের সাবেক চর ঝাউকান্দা ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন মৃধার ছেলে রায়হান মৃধার বাড়ির পাশে দুই ব্যক্তি শটগান নিয়ে ঘোরাঘুরি ও মহড়া দেয়। এতে রায়হান মৃধা ও আশপাশের বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
রায়হান জানান, এর আগেও তার বাড়ির পাশে অচেনা কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র হাতে মহড়া দিয়েছিল। এ ঘটনায় তিনি চরভদ্রাসন থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

রায়হানের অভিযোগ অনুযায়ী, লোহার টেক গ্রামের চুননু খার ছেলে জুয়েল খান ও সৈয়দ আনোয়ার হোসেনের ছেলে তৈয়বুর রহমান রাত সাড়ে ১১টার দিকে শটগান নিয়ে এলাকায় ঘুরছিলেন।

এদিকে, উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে সাম্প্রতিক সময়ে চুরির ঘটনাও বেড়েছে। ৩১ সেপ্টেম্বর রাতে হাজিডাঙ্গী গ্রামের খায়ের মন্ডল ও ওবায়দুল মন্ডলের দুটি ষাঁড় চুরি হয়। একইভাবে বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটছে।

টিলারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুই দফায় চুরি হয়েছে—প্রথমবারে ৭টি ফ্যান ও একটি মোটরপাম্প, পরে আরও ৩টি ফ্যান চুরি হয়। কিন্তু এখনো পর্যন্ত পুলিশ বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।

আব্দুল শিকদার ডাংগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেও পাঁচটি ফ্যান, মোটরপাম্প ও সৌর বিদ্যুতের দুটি ব্যাটারি চুরি হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহিন আনোয়ার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

দক্ষিণ নবাবগঞ্জ (খালাসি ডাংগী) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও দু’দফায় চুরি সংঘটিত হয়েছে। প্রথমবারে ৭টি ফ্যান, সৌর বিদ্যুতের ব্যাটারি ও বৈদ্যুতিক তারসহ মূল্যবান সরঞ্জাম চুরি হয়। দ্বিতীয় দফায় শিক্ষকদের ও শিক্ষার্থীদের অর্থে কেনা ৩টি ফ্যানও চুরি হয়ে যায়।

এছাড়া পদ্মা, উত্তর আলমনগর, পূর্ব চরভদ্রাসন (মাথাভাঙ্গা) ও ইউসুফ শিকদার ডাংগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেও ফ্যান, বৈদ্যুতিক তার, মোটরপাম্প, সোলার প্যানেল ও অন্যান্য সরঞ্জাম চুরির ঘটনা ঘটেছে। প্রতিটি ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হলেও পুলিশের তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

ভারপ্রাপ্ত উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আজিজ হোসেন বলেন, “বেশিরভাগ বিদ্যালয়ে নৈশ্য প্রহরী না থাকায় এমন চুরির ঘটনা ঘটছে।”

অন্যদিকে স্থানীয় সুশীল সমাজের অভিমত, জনসচেতনতার অভাব ও পুলিশের ঢিলেঢালা নজরদারির কারণেই এলাকায় চুরি-ছিনতাই ও অস্ত্র মহড়ার মতো ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে। তারা প্রশাসনকে আরও কঠোর নজরদারি চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

চরভদ্রাসন থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই রফিকুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আমরা দেখছি।”
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) আজমির হোসেন বলেন, “রাতে পাখি শিকার ও অস্ত্র মহড়ার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই বাংলা/এমএস

টপিক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here