কুড়িগ্রামে সেতুর পাশে অবৈধ বালু উত্তোলন, ঝুঁকিতে দুধকুমার নদ ও তীররক্ষা বাঁধ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার দুধকুমার নদে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। নির্মাণাধীন সোনাহাট সেতুর পাশ থেকে বালু তোলায় সেতুর নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। পাশাপাশি ঝুঁকিতে রয়েছে নদীর তীররক্ষা বাঁধ, তীরবর্তী বসতভিটা ও ফসলি জমি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট স্থলবন্দরগামী সড়কে দুধকুমার নদের ওপর প্রায় ১৩০ বছর পুরোনো একটি রেলসেতু রয়েছে। সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ও মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় এর দক্ষিণ পাশে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) ২০১৯ সালে ১৩৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬৪৫ দশমিক ১৫ মিটার দীর্ঘ নতুন সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করে। ২০২১ সালে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও চার দফা সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি করেও এখনো কাজ সম্পন্ন হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী জুনের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, নির্মাণাধীন সেতুর কাছেই এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তীররক্ষা বাঁধের পাশে একাধিক ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, পাইকেরছড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মাসুদ রানার নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী মহল এই বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত।

বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী সেতু, কালভার্ট, বাঁধ, সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে এই আইন উপেক্ষা করে ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো সেতু ও নির্মাণাধীন নতুন সেতুর পাশ থেকেই বালু তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ কফিলুর রহমান, মোঃ মাহবুব হোসেন ও মোঃ বাবু মিয়া জানান, সোনাহাট সেতুর পশ্চিম-দক্ষিণ প্রান্তে পাউবো ব্লক ফেলে নদীভাঙন প্রতিরোধে তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু ওই ব্লকের পাশেই এবং নদীর পূর্ব তীরে ড্রেজার বসিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। এতে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি তীরবর্তী বসতভিটা, ফসলি জমি ও ভুট্টাক্ষেতও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ড্রেজারের মালিক সম্প্রতি বালুর ব্যবসা শুরু করেছেন। তবে সেতুর এত কাছে বালু উত্তোলনের ফলে নদীভাঙনের ঝুঁকি বাড়লেও ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে পারছেন না।

অভিযোগের বিষয়ে মোঃ মাসুদ রানা বলেন, নতুন সেতু নির্মাণে কাজ করা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাকে বালু তুলতে বলা হয়েছে এবং ওই বালু সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণে ব্যবহার করা হচ্ছে।

তবে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মোঃ শামীম আহমেদ জানান, সেতুর কাজ সাব-কন্ট্রাক্টে দেওয়া হয়েছে এবং কাউকে নদী থেকে বালু উত্তোলনের নির্দেশ দেওয়া হয়নি। এ ধরনের নির্দেশ দেওয়ার এখতিয়ারও তাদের নেই।

পাইকেরছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুর রাজ্জাক সরকার বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে বালু উত্তোলনের অনুমতি আছে কি না এ বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু জানাননি।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ শাহাদাৎ হোসেন বলেন, বিষয়টি জানার পর সেখানে লোক পাঠানো হচ্ছে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করতে পারে এবং এতে সেতু, তীররক্ষা বাঁধ ও আশপাশের জনবসতি মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here