পিরোজপুর প্রতিনিধি :
পিরোজপুর জেলার ঐতিহ্যবাহী কদমতলা ইউনিয়নে অবস্থিত খানাকুনিয়া পি.ই.আর.সি ফাজিল মাদ্রাসা আজ এক করুণ দশার মুখোমুখি। দীর্ঘ বছর ধরে হাজার হাজার আলোকিত শিক্ষার্থী তৈরি করে বাংলাদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দেশের সেবায় নিয়োজিত এই প্রাচীন বিদ্যাপীঠটি বর্তমানে জীর্ণ অবকাঠামো নিয়ে ধুঁকছে।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
মাদ্রাসার প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা দেশের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও, যে প্রতিষ্ঠান তাদের জ্ঞান দান করেছে, সেই প্রতিষ্ঠানটিই এখন অস্তিত্ব সংকটে। শিক্ষার আলো ছড়ানো প্রতিষ্ঠানের বেহাল দশা মাদ্রাসাটির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা সন্তোষজনক হলেও, প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে এর জরাজীর্ণ অবকাঠামো। ভবনগুলি অত্যন্ত পুরোনো হওয়ায় সেগুলোতে ফাটল ধরেছে এবং অনেক ক্লাসরুম ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই শ্রেণিকক্ষে জল জমে যায়, যা পাঠদান কার্যক্রমে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটায়। এ বিষয়ে মাদ্রাসার (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক বলেন এটি অত্যন্ত ঐতিহ্যবাহী একটি প্রতিষ্ঠান।
আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি এর শিক্ষার মান ধরে রাখতে। কিন্তু ভবনগুলোর করুণ অবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং লেখাপড়ার পরিবেশ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে মাদ্রাসার ভবন সংস্কার ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন একান্ত জরুরি। সরজমিনে দেখা যায় মাদ্রাসার সামনে দুটি ভাঙ্গা সাঁকো , মাদ্রাসার ভেতরের কাঠামোর মতোই খারাপ অবস্থা মাদ্রাসায় আসার পথের। প্রতিষ্ঠানের ঠিক সামনেই রয়েছে দুটি ভাঙ্গা সাঁকো (পুল)। এই সাঁকো দুটি ভেঙে যাওয়ায় ছোট শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোনোমতে মাদ্রাসায় যাতায়াত করে। বর্ষার সময়ে এই পথটি প্রায় ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে ওঠে, ফলে অনেক শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকে।
স্থানীয় অভিভাবক এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যে প্রতিষ্ঠান থেকে এত গুণীজন তৈরি হলো, তার প্রবেশ পথ যদি এমন বিপদজনক হয়, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। জরুরি ভিত্তিতে এই দুটি সাঁকো সংস্কার করে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা করা দরকার।
ঐতিহ্য রক্ষা ও দ্রুত অবকাঠামো উন্নয়ন খানাকুনিয়া পি.ই.আর.সি ফাজিল মাদ্রাসা কেবল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, এটি কদমতলা ইউনিয়নের একটি ঐতিহ্যের প্রতীক। মাদ্রাসার বর্তমান দুরাবস্থা স্থানীয় শিক্ষানুরাগী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের গভীর উদ্বেগের কারণ। দেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় প্রশাসনের কাছে ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামো দ্রুত উন্নয়ন, জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষগুলোর সংস্কার এবং শিণক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াতের জন্য ভাঙ্গা সাঁকো দুটি পুনঃনির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
তাদের মতে, এই প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখা এবং এর ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা এখন সময়ের দাবি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বলেন মাদ্রাসার যাতায়াত পথ এবং মাদ্রাসার বর্তমান অবকাঠামো অত্যন্ত দুঃখজনক অবস্থা, আমরা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি অতি দ্রুত মাদ্রাসার অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ শুরু হবে।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

