রৌমারীতে ৬১ লাখ টাকার গরু ১৪ লাখে নিলাম: কাস্টমস কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

0
107

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :


কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ৬১ লাখ টাকার গরু গোপনে মাত্র ১৪ লাখ টাকায় নিলামে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে কাস্টমস কর্মকর্তা নাহিদ গাজীর বিরুদ্ধে। সিন্ডিকেটের যোগসাজশে এই অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চলছে তীব্র আলোচনা।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

জানা গেছে, সম্প্রতি ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে আনা ২২টি গরু বিজিবি আটক করে রৌমারী কাস্টমস অফিসে জমা দেয়। তখন বিজিবির নির্ধারিত আনুমানিক সিজার মূল্য ছিল প্রায় ৬১ লাখ টাকা। নিয়ম অনুযায়ী প্রকাশ্যে নিলাম হওয়ার কথা থাকলেও গত বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) কাস্টমস কর্মকর্তাদের সহায়তায় স্থানীয় একটি সিন্ডিকেট মাত্র ১৩ লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ টাকায় গরুগুলো কিনে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় মূল্য নির্ধারণ নিয়েও অসঙ্গতি দেখা গেছে। প্রথমে ১৮টি গরুর মূল্য ধরা হয় ২৫ লাখ টাকা, পরে রহস্যজনকভাবে ২২টি গরুর মূল্য কমিয়ে করা হয় ২২ লাখ টাকা।

যেখানে প্রকাশিত দরপত্র অনুযায়ী ৪৫ জন অংশ নিলেও সিন্ডিকেটের সদস্যরা উচ্চ দরদাতাদের নিলাম থেকে বিরত রাখেন বলে অভিযোগ অংশগ্রহণকারীদের।

নিলাম অংশগ্রহণকারী ওমর ফারুক ইসা বলেন— “আমি ২ ডিসেম্বর ২৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার জমা দিই। এর পর থেকে সিন্ডিকেটের লোকজন আমাকে আর ডাকতে দেয়নি। নিয়ম ভেঙে তারা খুব কম দামে গরু তুলে নিয়েছে।”

তিনি আরো বলেন, “কিছু স্থানীয় ব্যক্তি নিয়মিত কাস্টমসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আঁতাত করে কম দামে গরু নেন। এতে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে।”

জামালপুর-৩৫ বিজিবির সাহেবের আলগা ক্যাম্প কমান্ডার নায়েক সুবেদার মোনায়েম বলেন— “আটক মালামালের আনুমানিক বাজার মূল্য আমরা নির্ধারণ করি। নিলামে দামে কিছু কমবেশি হতে পারে, তবে এত কম হওয়ার কথা নয়।”

অভিযোগ সম্পর্কে কাস্টমস কর্মকর্তা নাহিদ গাজী বলেন— “সরকারি নিয়ম মেনেই নিলাম হয়েছে। সিন্ডিকেট আছে কি না, আমার জানা নেই। সর্বোচ্চ দরদাতার কাছেই গরু বিক্রি করা হয়েছে।”

রৌমারী শুল্ক গুদাম কর্মকর্তা আল-শাহরিয়ার বলেন— “আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে সিন্ডিকেট নিয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি।”

রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলাউদ্দিন জানান— “শুল্ক, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট আমার নিয়ন্ত্রণে নয়। তবে কাস্টমস কর্মকর্তার অনিয়মের বিষয়টি জেলা প্রশাসক সভায় উত্থাপন করব।”

এই বাংলা/এমএস

টপিক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here