কুড়িগ্রামে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষকদের আন্দোলনে স্থবির পরীক্ষা কার্যক্রম, বিপাকে হাজারো শিক্ষার্থী

0
274
সারা দেশে সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আন্দোলনের বলি হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা / ছবি - এই বাংলা

কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি :


মঙ্গলবার (০২ ডিসেম্বর ২০২৫) সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চলমান আন্দোলনের কারণে কুড়িগ্রাম জেলায় বার্ষিক পরীক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে অনেক শিক্ষক পরীক্ষায় অংশ নিলেও সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে দুই দিন ধরে পুরোপুরি পরীক্ষাগ্রহণ বন্ধ রয়েছে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

জেলায় ১ ডিসেম্বর থেকে একযোগে শুরু হওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষায় বেশিরভাগ সহকারী শিক্ষক অংশ নিলেও চিলমারী ও রৌমারী উপজেলায় কিছু বিদ্যালয়ে পরীক্ষায় জটিলতা দেখা দেয়। রৌমারীর কয়েকটি স্কুলে শিক্ষকরা লাইব্রেরিতে অবস্থান নিয়ে পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ায় সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমুল করিম প্রধান শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষা নেন।

ফুলবাড়ী ও রাজারহাট উপজেলার অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা পরীক্ষার দায়িত্ব পালন করছেন। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় কর্মবিরতির ছবি ছড়িয়ে পড়ায় অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

একাধিক প্রধান শিক্ষক অভিযোগ করেন, ‘বেশিরভাগ শিক্ষকই পরীক্ষার দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত কিছু শিক্ষক পরীক্ষার সময় আন্দোলনের ডাক দিয়ে পরিস্থিতিকে জটিল করছেন।’

গত ২৪ নভেম্বর কুড়িগ্রামের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হলেও ১ ডিসেম্বর থেকে সহকারী শিক্ষকরা কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় কর্মবিরতিতে যান। ফলে কুড়িগ্রাম সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, উলিপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ বেশিরভাগ স্কুলে পরীক্ষার অগ্রগতি থেমে গেছে।

শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার রুটিন অনুযায়ী স্কুলে গেলেও পরীক্ষা না নিয়েই ফিরে আসতে হচ্ছে।

এক সহকারী শিক্ষক জানান, “আমাদের দাবিগুলো দীর্ঘদিনের। আমরা চরম বৈষম্যের শিকার। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী পরীক্ষা বন্ধ রাখা ছাড়া উপায় নেই।”

কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা অফিস জানায়, জেলার ১০টি সরকারি মাধ্যমিক স্কুলের মধ্যে সোমবার আটটি স্কুলে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। মঙ্গলবার পাঁচটি নব-সরকারিকৃত বিদ্যালয়ে পরীক্ষা নিলেও পুরনো পাঁচটি সরকারি বিদ্যালয়ে পরীক্ষা পুনরায় বন্ধ থাকে।

জেলা শিক্ষা অফিসার শফিকুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরীক্ষা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। কিন্তু তারা কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের কথা বলছেন।”

জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানান, “সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে এভাবে আন্দোলন করা বিধিসম্মত নয়। বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

চলমান অচলাবস্থায় প্রাথমিকের হাজারো শিক্ষার্থী আংশিকভাবে এবং মাধ্যমিকের শত শত শিক্ষার্থী সম্পূর্ণভাবে পরীক্ষাবঞ্চিত হচ্ছে। অভিভাবকরা বলছেন, “ন্যায্য দাবি থাকলেও শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাকে জিম্মি করা উচিত হয়নি।”

এই বাংলা/এমএস

টপিক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here