
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
মেয়াদ পূরণের আগেই কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের আমির পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন আমির হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন আজিজুর রহমান সরকার স্বপন—তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সাবেক ফ্যাকাল্টি সভাপতি ও জামায়াতের সাবেক জেলা আমির। সোমবার (২৪ নভেম্বর) বিকেলে জেলা কার্যালয়ে শপথ গ্রহণ শেষে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
এর আগে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে রুকনদের প্রত্যক্ষ ভোটে স্বপন নির্বাচিত হন। তাকে শপথ পড়ান দলটির কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর–দিনাজপুর অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মাওলানা মমতাজ উদ্দীন। শপথের সময় নবনির্বাচিত আমির আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।
২০১৯ সাল থেকে জেলা আমিরের দায়িত্বে থাকা মাওলানা আব্দুল মতিন ফারুকী ২০২৫–২৬ সেশনের জন্য পুনর্নির্বাচিত হলেও মেয়াদ শেষের আগেই তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তবে দলটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়নি।
বিদায়ী আমির মাওলানা আব্দুল মতিন ফারুকী বলেন, “কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রুকনদের ভোটে নতুন আমির নির্বাচিত হয়েছেন। এটি সম্পূর্ণ সাংগঠনিক প্রক্রিয়া। শপথের পর থেকেই তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। আমাকে আঞ্চলিক জনশক্তির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”
সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, নির্বাচনকে সামনে রেখে কিছুদিন ধরেই জেলা নেতৃত্বে পরিবর্তনের আলোচনা চলছিল। সাংগঠনিক কাজে সমন্বয়হীনতার বিষয়টিও কেন্দ্রীয় নেতাদের নজরে আসে। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় নির্দেশে আমির পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয় এবং রুকনদের ভোটে স্বপন বাকি সেশনের জন্য নির্বাচিত হন।
নবনির্বাচিত আমির আজিজুর রহমান স্বপন বলেন, “রুকনদের ভোটে আল্লাহর রহমতে আমিরের দায়িত্ব পেয়েছি। সর্বোচ্চ নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করব ইনশাআল্লাহ।”
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ইসলামী দলগুলোর প্রতি জনগণের ইতিবাচক সেন্টিমেন্ট রয়েছে। জাতীয় নির্বাচনেও মানুষ ইসলামমনাদের পক্ষে রায় দেবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। জেলার চারটি আসনেই জয়ের জন্য আমরা সংগঠিতভাবে কাজ করছি।”
এর আগে আজিজুর রহমান স্বপন ১৯৯৮ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত টানা ১৯ বছর কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের আমির ছিলেন। এরও আগে ১৯৯২–৯৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের ফ্যাকাল্টি সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। দক্ষ সংগঠক হিসেবে তিনি জেলার নেতাকর্মীদের কাছে পরিচিত। তার ছেলে আসিফ আব্দুল্লাহ ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক ও সিনেট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এই বাংলা/এমএস
টপিক
