বরিশাল প্রতিনিধি :
বরিশাল সদর উপজেলার বিভিন্ন নদী–খাল ও চরাঞ্চলে চলছে ভয়াবহ পরিবেশ–বিনাশী অপরাধমূলক কার্যক্রম। কৃষি জমিতে ব্যবহৃত অত্যন্ত বিষাক্ত কীটনাশক নদীতে ছিটিয়ে চিংড়ি ও মাছ ধরা হচ্ছে প্রতিনিয়ত, এতে নদীর জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
স্থানীয়দের অভিযোগ—চারবাড়ীয়া ইউনিয়নের চরআবদানী, তালতলি, কদমতলার চর, ভাঙ্গারপার; চরমোনাই ইউনিয়নের পসুরিকাঠী, গিলাতলি, কালিগঞ্জ, বুখাইনগর; সায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের রামকাঠী, পানবাড়ীয়া, কামারপাড়া, চন্দ্রমোহন, কাটাদিয়া, মিয়ারহাটসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় রাতে দলবেঁধে নদীতে বিষ ছিটিয়ে চিংড়ি শিকার করা হয়।
নদীর পানির স্তর কমলে স্থানীয় ভাষায় “জোবা” পড়ার সময়ই এ কাজ বেশি হয়। ভোর হলে নদীর তীরে ভাসমান মৃত মাছ, চিংড়ি, কাঁকড়া, ব্যাঙসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী দেখা যায়।
পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতে, এ কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে “Lambda Cyhalothrin 10% EC”—অত্যন্ত প্রাণঘাতী কীটনাশক। যা পানিতে মিশে মানুষের স্নায়ুতন্ত্র, লিভার ও শ্বাসযন্ত্রের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সার, চর্মরোগ ও জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি বাড়ায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই অপরাধের পেছনে রয়েছে নগরীর কিছু ব্যবসায়ীর প্ররোচনা। অধিক মুনাফার আশায় তারা হাটখোলোসহ দোকানে বিষ বিক্রি করে এবং নিজেরাই বলে দেন কীভাবে নদীতে ছিটাতে হবে।
আইন অনুযায়ী, নদীতে বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরা পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫, পেস্টিসাইডস অর্ডিন্যান্স ১৯৭১ ও মৎস্য সংরক্ষণ আইনসহ একাধিক বিধি লঙ্ঘন। এ অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।
চরমোনাই এলাকার এক বাসিন্দা জানান, “প্রতিবাদ করলে বলে—উপরওয়ালার লোক আছি। তাই কিছু বলতে পারি না। প্রশাসনও তেমন ব্যবস্থা নেয় না।”
এ বিষয়ে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জামাল হোসাইন বলেন, “নদীতে কীটনাশক ব্যবহার করে মাছ ধরা গুরুতর অপরাধ। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পরিবেশ অধিদপ্তর বরিশালের সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দীন বলেন, “এটি সরাসরি পরিবেশ হত্যা। দায়ীদের কেউ ছাড় পাবে না।”
স্থানীয়দের দাবি—এখনই কঠোর অভিযান ও আইনি ব্যবস্থা না নিলে নদীমাতৃক বরিশালের জলজসম্পদ ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

