দীর্ঘ ১৭ বছরে রাষ্ট্রযন্ত্রের বিভিন্ন বিভাগকে পঙ্গু করে ফেলা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন দুর্যোগ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী মোঃ আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন সঠিকভাবে কার্যক্রম পরিচালিত না হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে এখনো অনিয়ম, দুর্নীতি ও অসামঞ্জস্য রয়েছে। এসব সমস্যা চিহ্নিত করে সরকার ধীরে ধীরে সমাধানের উদ্যোগ নিচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা কমপ্লেক্সের নতুন প্রশাসনিক ভবন ও হলরুম উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বিভাগের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এর প্রভাব প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়েও পড়েছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যমান অসঙ্গতি ও অনিয়ম একদিনে দূর করা সম্ভব নয়। এসব বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং রাষ্ট্রযন্ত্রকে আরও কার্যকর করার জন্য কাজ করছে।
তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী ও কার্যকর প্রশাসন প্রয়োজন। জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের প্রতিটি বিভাগকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।
কুড়িগ্রামের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মোঃ আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, সরকার কুড়িগ্রামকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ জেলা থেকে সরকার কোনো আসন না পেলেও উন্নয়নের ক্ষেত্রে কুড়িগ্রামকে কোনোভাবেই অবহেলা করা হবে না।
তিনি বলেন, কুড়িগ্রাম দেশের একটি পশ্চাৎপদ জেলা। এখানকার মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে সরকারের বিশেষ নজর রয়েছে। জেলার অনেক মানুষ এখনো দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছেন। তাদের জীবনমান উন্নয়নে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচনের কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
মন্ত্রী আরও বলেন, কুড়িগ্রামের মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে কাজের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে মানুষের আয় বাড়লে দারিদ্র্য কমবে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।
তিনি বলেন, শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোও সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য বিমোচনের প্রকল্পগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে কুড়িগ্রামের মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। এর ফলে সরকারের প্রতি মানুষের আস্থাও আরও বাড়বে।
উদ্বোধন শেষে মন্ত্রী কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা কমপ্লেক্সের নতুন ভবন ও হলরুমের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় রাজারহাট উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও কুড়িগ্রাম জেলা ও রাজারহাট উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এই বাংলা/এমএস