চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার একটি কমিউনিটি ক্লিনিক পুনর্নির্মাণের প্রায় ২১ লাখ টাকার প্রকল্পে দরপত্র প্রক্রিয়া নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি দরপত্র বিজ্ঞপ্তিতে প্রকল্পটি ‘উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি’ (ওটিএম) হিসেবে উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে ‘সীমিত দরপত্র’ (এসএলটি) পদ্ধতিতে কাজ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বঞ্চিত ঠিকাদাররা।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (এইচইডি), চট্টগ্রাম বিভাগের প্রকাশিত দরপত্র বিজ্ঞপ্তি (সূত্র নং: 45.02.0000.006.07.050.25-331, তারিখ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) অনুযায়ী, দরপত্র আইডি ১২৪১৪৪২-এর আওতায় রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের মৈশকরম কমিউনিটি ক্লিনিক পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ধরা হয় ২১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা।
বিজ্ঞপ্তিতে এটি উন্মুক্ত দরপত্র (ওটিএম) হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আলতাফ হোসেন এতে স্বাক্ষর করেন।
দরপত্রে অংশগ্রহণের জন্য তিন বছরের নির্মাণ অভিজ্ঞতা, গত তিন বছরে অন্তত ১৫ লাখ ১৮ হাজার টাকার একটি সমজাতীয় কাজের অভিজ্ঞতা, ১০ লাখ ৮৪ হাজার টাকার বার্ষিক গড় টার্নওভার এবং ১৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার তরল সম্পদের শর্ত নির্ধারণ করা হয়। দরপত্র দলিলের মূল্য ছিল ১ হাজার টাকা এবং দরপত্র জামানত ৫৪ হাজার টাকা।
অভিযোগকারীদের দাবি, বিজ্ঞপ্তিতে উন্মুক্ত দরপত্রের কথা থাকলেও পরে প্রকল্পটি সীমিত দরপত্র (এসএলটি) পদ্ধতিতে আগের ঠিকাদারকে দেওয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগ, এতে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অনেক যোগ্য দরদাতা বঞ্চিত হয়েছেন।
বঞ্চিত ঠিকাদারদের ভাষ্য অনুযায়ী, দরপত্র মূল্যায়নে প্রথম ও দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতারা কম দর দেওয়ার পরও কাজ পাননি। বরং ষষ্ঠ অবস্থানে থাকা একটি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে তারা প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও জানা যায়নি।

