ঘিওর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি :
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গর্জনা কুম পুনঃখননের মাধ্যমে দেশীয় মাছের অভয়ারণ্য ও পরিবেশ সংরক্ষণে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। দীর্ঘদিন পর জলাশয়টি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে সন্তোষ ও আশাবাদ দেখা দিয়েছে।
প্রায় সাড়ে ১৩ একর আয়তনের এই জলাশয়টি দীর্ঘদিন পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় এর গভীরতা ও পানিধারণ ক্ষমতা কমে গিয়েছিল। ফলে দেশীয় মাছের উৎপাদনও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। এ অবস্থায় জলাশয়টি পুনঃখনন ও সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করে ঘিওর সরকারি কলেজ কর্তৃপক্ষ।
প্রয়োজনীয় অনুমোদনের পর উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে খনন ও সংস্কার কাজের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। গত ২৪ মে কলেজের অধ্যক্ষ ফকির ফারুক আহম্মেদ স্বাক্ষরিত কার্যাদেশ অনুযায়ী মো. আহাম্মদ হোসাইন খান রাফিনকে এক বছরের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, খনন শেষে কুমের চারপাশে টেকসই পাড় নির্মাণ, বৃক্ষরোপণ এবং সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে দুটি ঘাটলা নির্মাণ করা হবে। এতে জলাশয়টি পরিবেশবান্ধব অবকাঠামোতে রূপ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
সংশ্লিষ্টদের মতে, পুনঃখননের ফলে সারা বছর পানি ধরে রাখা সম্ভব হবে, যা দেশীয় মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তারের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করবে। এতে বিলুপ্তপ্রায় মাছের প্রজাতি সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
একই সঙ্গে মাছ উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে ভবিষ্যতে নিলামের মাধ্যমে রাজস্ব আয়ও বাড়বে, যা ঘিওর সরকারি কলেজের উন্নয়ন কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট চারটি মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণে সহায়ক হবে।
স্থানীয়দের মতে, গর্জনা কুম শুধু একটি জলাশয় নয়; এটি ঘিওর অঞ্চলের ঐতিহ্য ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সঠিকভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এটি ভবিষ্যতে জেলার একটি মডেল পরিবেশ ও মৎস্য উন্নয়ন উদ্যোগ হিসেবে পরিচিতি পাবে।
এ উদ্যোগকে কেন্দ্র করে মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ কবির জিন্নাহ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাশিতা-তুল- ইসলাম এবং ঘিওর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ফকির ফারুক আহম্মেদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

