পাহাড়ি অঞ্চলের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত করেছে আলুবোখারা (বারি-১)

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি :

 

খাগড়াছড়ির পাহাড়ি মাটিতে সফলভাবে আলুবোখারা (বারি-১) চাষ করে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করেছে পাহাড়াঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্র। দীর্ঘদিনের গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে অর্জিত এ সাফল্য পাহাড়ি অঞ্চলের কৃষি খাতে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে।

গবেষণা কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, রামগড় পাহাড়াঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোঃ এমদাদুল হক-এর নেতৃত্বে কয়েক বছর ধরে পাহাড়ি মাটিতে আলুবোখারা চাষ নিয়ে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।

গবেষকদের মতে, পাহাড়ি অঞ্চলের মাটি, জলবায়ু ও পরিবেশ সমতল এলাকার তুলনায় ভিন্ন হওয়ায় শুরুতে এ ফলের চাষ উপযোগী করা বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। তবে সঠিক জাত নির্বাচন, উপযুক্ত পরিচর্যা এবং ধারাবাহিক গবেষণার মাধ্যমে সেই চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করা সম্ভব হয়েছে।

বর্তমানে গবেষণা কেন্দ্রের পরীক্ষামূলক বাগানে উৎপাদিত আলুবোখারা গাছে সন্তোষজনক ফলন দেখা যাচ্ছে। ফলে স্থানীয় কৃষকদের মাঝেও এ ফল চাষে আগ্রহ বাড়ছে।

গবেষণা কেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানান, পাহাড়ি এলাকায় প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি নতুন ও লাভজনক ফল চাষ সম্প্রসারণে তারা কাজ করে যাচ্ছেন। আলুবোখারার সফল উৎপাদন পাহাড়ি কৃষকদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. এমদাদুল হক বলেন, “পাহাড়ি মাটিতে আলুবোখারা (বারি-১) চাষ একসময় বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। দীর্ঘ গবেষণা ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা সফলতা পেয়েছি। এখন পাহাড়ি এলাকার কৃষকরাও এ ফল চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।”

তিনি আরও বলেন, বাণিজ্যিকভাবে আলুবোখারা চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি পাবে, স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং পাহাড়ি অঞ্চলে বহুমুখী ফল চাষের সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চমূল্যের ফল হিসেবে আলুবোখারা পাহাড়ি অঞ্চলের কৃষকদের জন্য নতুন আয়ের উৎস তৈরি করতে পারে এবং কৃষির বৈচিত্র্য বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here