কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া সীমান্তের শূন্যরেখায় দুই শিশুসন্তানসহ চার দিন অবস্থানের পর আলোচিত দম্পতি মোঃ বেলাল হোসেন ও মোছাঃ সুমি আক্তার বর্তমানে নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) পরিবারের একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, সীমান্ত থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর তারা নিজ বাড়িতে না গিয়ে আপাতত অন্যত্র অবস্থান করছেন। তাদের দুই শিশুসন্তানও সুস্থ ও নিরাপদ রয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোরে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ওই দম্পতি ও তাদের দুই সন্তানকে সরিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও পুলিশ।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ হাসানুর রহমান নিশ্চিত করেন যে, দুই শিশুসহ ওই দম্পতি আর সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন না। তবে তাদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
পারিবারিক সূত্রের দাবি, সীমান্ত থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর তারা ময়মনসিংহে পৌঁছালেও নিজ এলাকায় না ফিরে পরে গাজীপুরের শ্রীপুরে চলে যান এবং বর্তমানে সেখানেই অবস্থান করছেন। গণমাধ্যমের নজর এড়াতেই তারা আপাতত নিজ বাড়িতে ফিরছেন না বলেও সূত্রটি জানিয়েছে।
এদিকে বেলালের মা মোছাঃ হাসনা বেগম-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “বেলাল বাড়িতে নেই, কোথায় আছে জানি না।”
উল্লেখ্য, গত ১৪ জুন ভোরে রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া ও ইজলামারী সীমান্ত এলাকায় নারী ও শিশুসহ কয়েকজনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, তারা কয়েকদিন ধরে সীমান্তের শূন্যরেখায় মানবেতর অবস্থায় ছিলেন। বিষয়টি গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হওয়ার পর মানবিক বিবেচনায় দুই শিশুসন্তানসহ বেলাল-সুমি দম্পতিকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
দম্পতির দাবি, তারা কয়েক সপ্তাহ আগে সীমান্তপথে ভারতে গিয়েছিলেন। পরে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের আটক করে সীমান্ত এলাকায় ফিরিয়ে দেয়। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্তের ফলাফল এখনও প্রকাশিত হয়নি।

