নলডাঙ্গা (নাটোর) প্রতিনিধি :
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া পৌর শহরের কালিকাপুর মহল্লায় জার্মান প্রবাসী সাগর কুলেন্তুনুর বাড়ি ও আঙিনা এখন ফুটবলপ্রেমীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে প্রিয় দল জার্মানির প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে তিনি নিজ বাড়িকে সাজিয়েছেন এক অনন্য রূপে, যা স্থানীয়দের কাছে এখন ‘জার্মান হাউস’ নামে পরিচিত।
প্রায় এক একর আয়তনের বাড়ির আঙিনাজুড়ে টানানো হয়েছে ৪০টি জার্মান জাতীয় পতাকা। একই সঙ্গে মাতৃভূমির প্রতি সম্মান জানিয়ে ১০টি বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাও স্থাপন করা হয়েছে, যা জার্মান পতাকার চেয়ে এক ফুট উঁচুতে রাখা হয়েছে।
বাড়ির দেয়াল, টিনের চাল এবং বিভিন্ন প্রজাতির দুই শতাধিক গাছ জার্মান পতাকার কালো, লাল ও হলুদ রঙে রাঙানো হয়েছে। আঙিনার একটি বড় অংশকে ফুটবল মাঠের আদলে সাজানো হয়েছে। সেখানে জার্মান জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের প্রতিকৃতি, গোলপোস্ট এবং বিশ্বকাপ ট্রফির প্রতিরূপ স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া জার্মানির চারবারের বিশ্বকাপ জয়ের সালও প্রদর্শন করা হয়েছে।
এই ব্যতিক্রমী আয়োজন দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা আসছেন। অনেকে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ৩৬ বছর বয়সী সাগর কুলেন্তুনু বর্তমানে জার্মানির ডর্টমুন্ডের একটি হাসপাতালে নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর হিসেবে কর্মরত। ঢাকার নটরডেম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাসের পর তিনি চিকিৎসা ও নার্সিং বিষয়ে পড়াশোনা করেন। ২০১৬ সালে জার্মানিতে গিয়ে নার্সিং ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন এবং সেখানেই কর্মজীবন শুরু করেন।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
২০২৩ সালে বিয়ের সময়ও তিনি নিজের বাড়িকে জার্মান পতাকার আদলে সাজিয়েছিলেন। এবার বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে সেই আয়োজন আরও বড় পরিসরে করা হয়েছে।
সাগরের মা কানন গমেজ জানান, জার্মানি থেকে ভিডিও কলে ছেলে ও পুত্রবধূ এমলিনা সরকার পুরো সাজসজ্জার নির্দেশনা দিয়েছেন। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী বাড়িটি সাজানো হয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে এটি দেখছেন, যা পরিবারের জন্য আনন্দের বিষয়।
স্থানীয় শিক্ষার্থী অরলীন ডি কস্তা বলেন, “আমি আর্জেন্টিনার সমর্থক। কিন্তু এত সুন্দরভাবে সাজানো এই জায়গায় এসে ছবি তোলার লোভ সামলাতে পারিনি। সত্যিই দারুণ একটি আয়োজন।”
স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব মাহমুদুল হাসান মেমন বলেন, “বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই জার্মান বাড়ির খবর প্রকাশিত হয়েছে। এটি এখন এলাকার অন্যতম আলোচিত আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ এসে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন উপভোগ করছেন।”
ফুটবলপ্রেম, সৃজনশীলতা ও নান্দনিকতার সমন্বয়ে সাজানো এই ‘জার্মান হাউস’ এখন বনপাড়ার অন্যতম দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

