এক পা হারিয়েও হার মানেননি সবুজ, নতুন জীবনের স্বপ্নে মানবিক সহায়তার অপেক্ষা

সদরপুর (ফরিদপুর) প্রতিনিধি :

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার এক সাধারণ পরিবারের সন্তান সবুজ। শৈশব থেকেই অভাব-অনটনের সঙ্গে লড়াই করে বড় হয়েছেন তিনি। পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে একসময় বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন। কিন্তু একটি সড়ক দুর্ঘটনা তার জীবনের গতিপথ বদলে দেয়।

প্রায় দুই বছর আগে সদরপুরে সোনালী ব্যাংকের সামনে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন সবুজ। দুর্ঘটনায় তার ডান পা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দীর্ঘ চিকিৎসার পরও পা রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত জীবন বাঁচাতে হাঁটুর নিচ থেকে পা কেটে ফেলতে হয়।

সম্প্রতি সদরপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সরকারি অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে দেখা হয় পরিচিতজনদের। সেখানে প্রতিবন্ধী নাগরিকদের মাঝে ‘সুবর্ণ নাগরিক কার্ড’ বিতরণ করা হচ্ছিল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবুজ নিজের জীবনের কঠিন বাস্তবতার কথা তুলে ধরেন।

তিনি জানান, দুর্ঘটনার পর থেকে স্বাভাবিক জীবনযাপন তার জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। চলাফেরা, কাজকর্ম এবং পরিবারের দায়িত্ব পালন—সবকিছুই সীমাবদ্ধতার মধ্যে করতে হচ্ছে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

চিকিৎসকদের মতে, একটি উন্নতমানের কৃত্রিম পা সংযোজন করা গেলে সবুজ আবার স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারবেন এবং কর্মজীবনে ফিরতে পারবেন। তবে এর জন্য প্রয়োজন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ, যা তার পরিবারের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়।

সবুজের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটের মধ্যে রয়েছে। জীবনের নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেও তিনি হাল ছাড়েননি। এখনও নতুন করে জীবন গড়ার স্বপ্ন দেখছেন এবং সমাজের সহৃদয় মানুষদের সহযোগিতা কামনা করছেন।

স্থানীয়দের মতে, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী বাংলাদেশি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং মানবিক মানুষদের সহযোগিতা পেলে সবুজের পুনর্বাসন সম্ভব। একটি কৃত্রিম পা হয়তো তার হারানো অঙ্গ ফিরিয়ে দিতে পারবে না, তবে তাকে আবার হাঁটার শক্তি, আত্মবিশ্বাস এবং নতুন জীবনের সম্ভাবনা ফিরিয়ে দিতে পারে।

সবুজের গল্প শুধু একজন মানুষের সংগ্রামের গল্প নয়; এটি দুর্ঘটনা ও দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করা অসংখ্য মানুষের বাস্তব চিত্র। তাদের পাশে দাঁড়ানো সমাজের মানবিক দায়িত্ব বলেও মনে করছেন সচেতন মহল।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here