সেতু ধসে ট্রাক্টর নিচে পরে নিহত ১, আহত ৫: অর্ধলাখ মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা 

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

 

 

কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে একটি গ্রামীণ সেতু ধসে ট্রাক্টর নিচে পড়ে একজন নিহত এবং অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

রোববার (২৪ মে) দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি এলাকায় শোক ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, একটি ট্রাক্টর সেতুর ওপর উঠতেই মুহূর্তের মধ্যে সেটি তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। এতে ট্রাক্টরে থাকা কয়েকজন নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেন এবং আহতদের প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে কয়েকজনের অবস্থার অবনতি হলে তাঁদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পথে একজনের মৃত্যু হয়। আহত অন্য পাঁচজনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নিহত ও আহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০০৩ সালে নির্মিত সেতুটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। তাঁদের দাবি, নির্মাণের মাত্র ২৩ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই সেতুটি ধসে পড়া নিম্নমানের নির্মাণকাজ ও তদারকির দুর্বলতার প্রমাণ। এ ঘটনায় সেতু নির্মাণে জড়িত ঠিকাদার এবং তৎকালীন সংশ্লিষ্ট এলজিইডি কর্মকর্তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

সেতুটি ভেঙে পড়ায় পাঁচগাছী, যাত্রাপুর ও বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের প্রায় অর্ধলাখ মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। স্থানীয় বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জরুরি সেবাগুলোতে যাতায়াতে দুর্ভোগ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল বাতেন বলেন, “সেতু ধসের পরপরই কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহোদয়কে বিষয়টি জানিয়েছি। তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।”

এ বিষয়ে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, “পূর্ব থেকেই সেতুটি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ছিল। স্থানীয়দের ভারী যানবাহন চলাচল না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। এখন সেখানে নতুন সেতুর প্রয়োজন নেই। বন্যা শেষে সেতুর পরিবর্তে মাটির রাস্তা নির্মাণ করা হবে। আপৎকালীন যোগাযোগের জন্য আগামীকাল বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হবে।”

তবে এলজিইডির এই বক্তব্য নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের একাংশ বলছেন, দীর্ঘদিন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা সেতুটি সংস্কার বা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণে আগেই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে প্রাণহানির মতো ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো।

এ ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত এবং দ্রুত বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here