সাজিদ বিন বশির, সাব এডিটর :
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) আয়োজিত ‘সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এ সেরা পাঁচজনের মধ্যে স্থান অর্জন করেছেন পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম রঘুনাথপুরের মেধাবী তরুণী নুসরাত জাহান। প্রায় ৫ হাজার প্রতিযোগীর মধ্য থেকে এই কৃতিত্ব অর্জন করে তিনি এলাকায় গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছেন।
বিজয়ীদের হাতে সার্টিফিকেট, বই ও নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়। বুধবার (১৪ মে) সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে ডাকসুর কনফারেন্স রুমে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
নুসরাত জাহান একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। তার বাবা মাওলানা মো. মোস্তাবশির রহমান পেশায় শিক্ষক এবং মা সালমা জাহান একজন গৃহিণী। চার ভাই-বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। ছোটবেলা থেকেই সুন্দর হাতের লেখার প্রতি তার আলাদা আগ্রহ ছিল। পঞ্চম শ্রেণি থেকে তিনি তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসায় পড়াশোনা শুরু করেন এবং সম্প্রতি আলিম পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
হাতের লেখার জগতে নুসরাত জাহানের সাফল্য নতুন নয়। তিনি হ্যান্ড রাইটিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আয়োজিত সুন্দর হস্তলিপি প্রতিযোগিতায় টানা তিনবার প্রথম স্থান অর্জন করেছেন। বর্তমানে তিনি সংগঠনটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও আন্তর্জাতিক মানের হ্যান্ডরাইটিং প্রতিযোগিতার পরিকল্পনা প্রণয়ণেও সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন তিনি।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
ডাকসুর এ আয়োজন শিক্ষার্থীদের বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা, ভাষার সৌন্দর্য ও সৃজনশীলতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অনুষ্ঠানে ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, “বিতর্কচর্চা ও সাহিত্যভিত্তিক সৃজনশীল আয়োজন শিক্ষার্থীদের মনন গঠন ও নেতৃত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা, সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের, ক্যারিয়ার উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এস এম আল মিনহাজসহ ডাকসু ও হল সংসদের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
প্রত্যন্ত গ্রামের একজন শিক্ষার্থী হয়েও নুসরাত জাহানের এই সাফল্য প্রমাণ করে—অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রম থাকলে প্রতিভা কোনো বাধা মানে না।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

