মোশার্রাফ হোছাইন খান, চীফ রিপোর্টার :
ঢাকা: নিয়ন্ত্রক সংস্থাসমূহের একের পর এক বিশেষ আইনি ছাড়, প্রবিধান লঙ্ঘন এবং ‘উইন্ডো ড্রেসিং’ বা কাগজের হিসাবের নজিরবিহীন কারসাজির আড়ালে চরম প্রযুক্তিগত দেউলিাত্বের (Technical Insolvency) মুখে পড়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি ।
আন্তর্জাতিক হিসাবমান (IFRS) ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংবিধিবদ্ধ বিধিমালা উপেক্ষা করে বিদায়ী বছর ২০২৫ সালে ব্যাংকটি কাগজে-কলমে ৮৬ কোটি ৫১ লাখ টাকা নিট মুনাফা দেখালেও, বাস্তবে তাদের প্রকৃত লোকসান ৫ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
শুধু তা-ই নয়, ৫ হাজার ৩৯৩ কোটি টাকার বিশাল প্রভিশন বা সঞ্চিতি ঘাটতি ব্যালেন্স শিটের বাইরে লুকিয়ে রাখায় ব্যাংকটির প্রকৃত মূলধন ভিত্তি বা নেট ওয়ার্থ এখন সম্পূর্ণ ধসে গিয়ে ঋণাত্মক বা মাইনাস (-) ২ হাজার ৭৮৭ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।
এর ফলে ব্যাংকটির প্রতি শেয়ারের নিট সম্পদ মূল্য (NAV) ২১ টাকা ১৬ পয়সা ঘোষণা করা হলেও, প্রকৃত সম্পদ মূল্য দাঁড়িয়েছে মাইনাস (-) ২৫ টাকা ২৬ পয়সা—যা ব্যাংকিং খাতের এক নজিরবিহীন করপোরেট জালিয়াতি [১]। দৈনিক এই বাংলার হাতে আসা ব্যাংকটির ২০২৪ ও ২০২৫ সালের নিরীক্ষিত চূড়ান্ত অডিট রিপোর্ট, ব্যালেন্স শিট এবং লাভ-ক্ষতির খতিয়ান বিশ্লেষণ করে এই ভয়াবহ চিত্র পাওয়া গেছে ।
কাগজের হিসাব বনাম আসল সত্য: ৩ বছরের তুলনামূলক সারণী (কোটি টাকায়)
|
আর্থিক সূচক ও খাত |
২০২৩ সাল |
২০২৪ সাল |
২০২৫ সাল (বর্তমান) |
অডিটরের মন্তব্য ও বাস্তব চিত্র |
|
লুকানো প্রভিশন ঘাটতি |
সূচনা |
৩,৯৮৭.২১ কোটি |
৫,৩৯৩.১৯ কোটি |
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ ছাড়ে ব্যালেন্স শিটের বাইরে আড়াল। |
|
ঘোষিত নিট মুনাফা/লোকসান |
(+) ৭৪.৪২ কোটি |
(+) ৭৪.৪২ কোটি |
(+) ৮৬.৫১ কোটি |
কাগজে-কলমে লাভজনক দেখানো হলেও এটি কৃত্রিম মুনাফা। |
|
প্রকৃত নিট লোকসান |
– |
(-) ৩,৯১২.৭৯ কোটি |
(-) ৫,৩০৬.৬৮ কোটি |
প্রভিশন ঘাটতি হিসাব করলে ব্যাংকটি মেগা লোকসানি। |
|
প্রকৃত নিজস্ব মূলধন (Equity) |
৪,২২৮.৮৪ কোটি |
(-) ১২৫.৩৭ কোটি |
(-) ২,৭৮৭.৬৮ কোটি |
নিজস্ব পুঁজি সম্পূর্ণ ধুয়ে-মুছে মূলধন এখন মাইনাসে। |
|
প্রতি শেয়ারের প্রকৃত সম্পদ (NAV) |
(+) ২০.৭১ টাকা |
(+) ২০.৭১ টাকা |
(-) ২৫.৬৭ টাকা |
কাগজের সম্পদ ভুয়া, প্রতিটি শেয়ার ঋণের নিচে চাপা। |
|
সর্বমোট অবরুদ্ধ/খেলাপি ঋণ |
৬,৮২৬.৭২ কোটি |
১৫,৩৭০.১৭ কোটি |
১৬,৫০৭.৩৭ কোটি |
মোট ঋণের ৩৩.১৬% টাকা এখন আদায়ের অযোগ্য। |
|
সিআরআর (CRR) আইন লঙ্ঘন |
কমপ্লায়েন্ট |
রেকর্ড ৯৩ দিন |
কমপ্লায়েন্ট |
তারল্য সংকটে টানা ৯৩ দিন নগদ জমা রাখতে ব্যর্থ, জরিমানা গোপন। |
|
অনুমোদনহীন সিএসআর (CSR) |
৫.০০ কোটি |
৫.০০ কোটি |
– |
পর্ষদের অনুমোদন ছাড়াই ১০ কোটি টাকা ফাউন্ডেশনে স্থানান্তর। |
|
সংকটাপন্ন বন্ড ও ব্যাংকে জিম্মি |
– |
১,৪৭২.১৯ কোটি |
১,৪৭৬.৪৫ কোটি |
অন্য ব্যাংকের বন্ড ও প্লেসমেন্টে এই বিপুল অর্থ আটকা। |
২ বছরের ধারাবাহিক কারসাজি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ‘কৃত্রিম অক্সিজেন’
অনুসন্ধানে দেখা যায়, আল-আরাফাহ ব্যাংকের এই দেউলিয়া দশা আকস্মিক নয়, বরং এটি দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত জালিয়াতির ফল । ২০২৪ সালের অডিট রিপোর্টে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস ফার্ম ব্যাংকটির আর্থিক বিবরণীর ওপর সরাসরি “কোয়ালিফাইড অপিনিয়ন” বা গুরুতর আপত্তি দিয়েছিল । তৎকালীন সময়ে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৫৬৮ কোটি টাকা প্রভিশন খরচ দেখানো হলেও বছর শেষে খেলাপি ঋণের কোনো আদায় ছাড়াই অলৌকিকভাবে তা কমিয়ে ৩৭৩ কোটি টাকা করা হয় এবং ৩,৯৮৭ কোটি টাকার প্রভিশন ঘাটতি গোপন করে ৭৪.৪২ কোটি টাকার কৃত্রিম মুনাফা দেখানো হয় ।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
অডিটরদের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও সেই মেগা ক্ষত না সারিয়ে ২০২৫ সালে এসে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং পরিদর্শন বিভাগের এক গোপন চিঠির (স্মারক নং: BSD-12/57/2026-396, তারিখ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬) বিশেষ ডেফারাল পলিসির আশ্রয় নেওয়া হয় । কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেওয়া এই বিশেষ আইনি ছাড়ে ৫,৩৯৩.১৯ কোটি টাকার মূল সঞ্চিতি ঘাটতিকে ব্যালেন্স শিটের মূল দায় কলামের বাইরে লুকিয়ে রাখার অফিশিয়াল লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে ।
কাল্পনিক আয়ের মহোৎসব ও ৫১ শতাংশ কোর ব্যবসা ধস
ঋণ আদায় না হওয়ায় মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকের মূল ব্যবসা বা নিট বিনিয়োগ আয় (Net Investment Income) ১,২৫৫.৬১ কোটি টাকা থেকে ৫১.৩ শতাংশ ধসে ২০২৫ সালে মাত্র ৬১১.৩৪ কোটি টাকায় নেমে এসেছে । আয় কমলেও কৃত্রিম মুনাফা বজায় রাখতে ব্যাংকটি নজিরবিহীন অ্যাকাউন্টিং কারসাজির আশ্রয় নিয়েছে ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গাইডলাইন অমান্য করে কোনো টাকা আদায় না করেই ‘প্রফিট রেন্ট সাসপেন্স অ্যাকাউন্ট’ থেকে ২০ কোটি টাকা কাল্পনিক আয় এবং ট্যাক্স প্রভিশনে ২১.৪ কোটি টাকা কম খরচ দেখিয়ে নিট মুনাফা মোট ৪১.৪ কোটি টাকা বাড়িয়ে (Overstated) দেখানো হয়েছে [১]। মূলধন ধসে যাওয়ায় অডিটররা চূড়ান্তভাবে প্রত্যয়ন করে লিখেছেন—”dividend is not distributable this year” অর্থাৎ ব্যাংকের কোনো লভ্যাংশ দেওয়ার সক্ষমতা নেই ।
৪৩ বড় গ্রুপের কাছে জিম্মি ২২ হাজার কোটি, ৪০ শতাংশ ঋণই খেলাপি!
আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-এর মূল মূলধন কাঠামো নির্দিষ্ট কিছু কর্পোরেট ও ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর পকেটে কেন্দ্রীভূত (Concentration Risk) হওয়ার এক আশঙ্কাজনক চিত্র উঠে এসেছে [১]। ব্যাংকের ‘সিগনিফিকেন্ট কনসেনট্রেশন’ সংক্রান্ত অডিট ডিসক্লোজার অনুযায়ী, ৪৩টি বড় পার্টির কাছে ব্যাংকের মোট বকেয়া ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২,০৭৫.২৪ কোটি টাকা [১]। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এই বড় পার্টিদের বিতরণ করা মোট ঋণের মধ্যে ৮,৮৫২.২০ কোটি টাকা বা ৪০.১০ শতাংশই এখন সরাসরি খেলাপি ও আদায়ের অযোগ্য ।
এর বাইরেও ব্যাংকটি নীতি সহায়তার নামে মোট বিনিয়োগের আরও ১৬ শতাংশ বা ৭,৯৬৫.১৫ কোটি টাকার ঋণ জোরপূর্বক রিশিডিউল বা পুনর্নির্ধারণ করে খাতা-কলমে ভালো দেখিয়েছে । ফলে ব্যাংকের বিতরণকৃত মোট ঋণের ৩৩.১৬ শতাংশ বা ১৬,৫০৭.৩৭ কোটি টাকাই এখন অবরুদ্ধ বা ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট । অর্থাৎ, প্রতি ১০০ টাকা ঋণের মধ্যে ৩৩ টাকাই বাজারে আটকা পড়েছে ।
আইন ভেঙে সস্তায় ঋণ বিতরণ
ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করে সিটি গ্রুপ (৬৬০.৩৮ কোটি টাকা), বসুন্ধরা গ্রুপ (৭৭০.৫৭ কোটি টাকা), মাহমুদ ফেব্রিকস (৮৮৬.৬৮ কোটি টাকা) এবং এস সুহি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ককে (৯২২.৩৫ কোটি টাকা) একক ঋণগ্রহীতা ফাণ্ডেড সীমার (৬২১.৫৩ কোটি টাকা) চেয়ে অতিরিক্ত শত শত কোটি টাকার বেআইনি ঋণ সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে ।
সবচেয়ে বড় জালিয়াতি হলো, ‘এস সুহি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক’-কে ব্যাংকের নিজস্ব তহবিলের খরচের (Cost of fund – ৭.২৮%) চেয়েও কম সুদে বা সস্তায় ঋণ বিতরণ করা হয়েছে, যা ব্যাংকের লাভজনকতাকে ধ্বংস করেছে । অডিটররা আরও ধরেছেন, ‘শিশির নিটিং’ এবং ‘মাহমুদ ফেব্রিকস’-এর খেলাপি হওয়ার যোগ্য ঋণকে কৃত্রিমভাবে ভালো বা স্ট্যান্ডার্ড ঋণ হিসেবে ব্যালেন্স শিটে টিকিয়ে রাখা হয়েছে ।
গরিবের আমানত শহরে পাচার
বর্তমানে ব্যাংকটি নিজস্ব পুঁজি হারিয়ে সম্পূর্ণভাবে সাধারণ আমানতকারীদের ৪৮,৫৯৬.৯৫ কোটি টাকার আমানতের ওপর ভর করে টিকে আছে, যার ৫৯.৫৫ শতাংশ আমানতই চড়া মুনাফার উচ্চ খরচের ফাঁদ [১]। ব্যাংকটি এজেন্ট banking-এর মাধ্যমে গ্রামীণ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ৪,০০৭.২৬ কোটি টাকা আমানত সংগ্রহ করেছে ।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ একে সফল ‘ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন’ দাবি করলেও, নথির অংক বলছে—গ্রামীণ মানুষের কষ্টার্জিত এই ৪ হাজার কোটি টাকা স্থানীয় পল্লী অর্থনীতিতে মাত্র ৫০৫ কোটি টাকা ঋণ দিয়ে, বাকি প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা সরাসরি ঢাকা ও চট্টগ্রামের ওই ৪৩টি বড় গ্রূপের পকেটে চালান করে দেওয়া হয়েছে ।
Boards অনুমোদন ছাড়াই সিএসআর-এর ১০ কোটি টাকা লোপাট
ব্যাংকের ২১ জন পরিচালকের ‘অ্যানেক্সার-সি’ (Related Party Disclosure) সংক্রান্ত চূড়ান্ত গোপন নথি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ব্যাংকের তৎকালীন ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবু নাসের (পূর্বাচল গ্রুপ) এবং পরিচালক আলহাজ্ব আহামেদুল হকসহ প্রভাবশালী পর্ষদ সদস্যরা নিজেরাই ব্যাংকের লোকসানি ও বিতর্কিত সাবসিডিয়ারি কোম্পানিগুলোর (CMSL ও CML) প্রধান বা এমডি ও চেয়ারম্যান পদে বসা ছিলেন ।
নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই দুই সাবসিডিয়ারি সংস্থাকে সাধারণ আমানতকারীদের তহবিল থেকে ১,৪৩াস.৫৮ কোটি টাকার অতিরিক্ত বেআইনি ঋণ সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে এবং শেয়ারবাজারের ২৬৫.৬৯ কোটি টাকার মেগা লোকসান আন্তর্জাতিক হিসাবমান ‘আইএএস-৩৬’ লঙ্ঘন করে ব্যালেন্স শিট থেকে আড়াল করা হয়েছে ।
অডিট নথিতে আরও ধরা পড়েছে, বিগত দুই বছরে পরিচালনা পর্ষদের (Board Approval) কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমোদন, রেজোলিউশন বা সই ছাড়াই মোট ১০ কোটি টাকা সিএসআর (CSR) ফান্ডের নামে ব্যাংকের মূল তহবিল থেকে বের করে নিজেদের তৈরি ‘আল-আরাফাহ ফাউন্ডেশন’-এর অ্যাকাউন্টে সরিয়ে খরচ দেখানো হয়েছে । treasury সাবসিডিয়ারি ‘ক্যাপিলিয়াল ম্যানেজমেন্ট’ দীর্ঘ ১২ বছর (২০১২ থেকে) অগ্রিম আয়কর সমন্বয় না করে বড় ধরনের কর ফাঁকি দিয়ে আসছে ।
রেকর্ড ৯৩ দিন সিআরআর ব্যর্থতার দণ্ড গোপন ও মানি লন্ডারিং ঝুঁকি
তীব্র তারল্য সংকটে পড়ে ব্যাংকটি আইনের তোয়াক্কা না করে ২০২৪ সালে রেকর্ড টানা ৯৩ দিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বাধ্যতামূলক নগদ জমা (সিআরআর) রাখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। সিআরআর ব্যর্থতার কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেওয়া বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা লাভ-ক্ষতির খাতায় আলাদা না দেখিয়ে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে সাধারণ ‘ব্যাংক চার্জ (নোট ৩৫)’-এর ভেতর লুকিয়ে প্রফিট বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে। এছাড়া, অন্য ব্যাংকগুলোর বন্ড ও প্লেজমেন্ট হিসেবে আরও প্রায় ১,৪০০ কোটি টাকা জিম্মি হয়ে পড়েছে, যার বিপরীতে কোনো সঞ্চিতি রাখা হয়নি ।
সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয় হলো, লোকবল না বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিভাগের ওপর এক বছরে ৪৬% অতিরিক্ত কাজের চাপ চাপানো হয়েছে, যার ফলে পণ্যের মূল্য কারসাজি ও ট্রেড বেসড মানি লন্ডারিং (TBML) প্রতিরোধের স্ক্রিনিং ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে । এর ফলে আমেরিকার প্যাট্রিয়ট অ্যাক্ট ও ওফাক (OFAC) নীতি অনুযায়ী যেকোনো মুহূর্তে আন্তর্জাতিক ডলার ফান্ড বা নস্ট্রো অ্যাকাউন্ট বাজেয়াপ্ত হওয়াসহ ভারী রেগুলেটরি জরিমানার মুখে পড়েছে ব্যাংকটি, যা ব্যাংকের টিকে থাকার সক্ষমতাকে সম্পূর্ণ হুমকির মুখে ফেলেছে ।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
“অনুসন্ধানে প্রাপ্ত এসব গুরুতর অনিয়ম, আইনি লঙ্ঘন ও হিসাব জালিয়াতির বিষয়ে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (MD & CEO) মোহাম্মদ রাফাত উল্লাহ খানএবং ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর, প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা সৈয়দ আবুল হাশেম এফসিএ, এফসিএমএ ও পিআরও’র সাথে -এর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। তবে তাদের মোবাইল নম্বরে বারবার কল দেওয়া হলেও কেউ ফোন রিসিভ করেননি। কর্তৃপক্ষের শীর্ষ ব্যবস্থাপনার পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।”

