আবারো প্রশাসনের নীরবতায় কুড়িগ্রামের আলোচিত স্কুলমাঠে পশুর হাট

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

 

মান্থলি পে-অর্ডার (এমপিও) স্থগিতের শাস্তি বহাল থাকার পরও দুই বছর বিরতির পর আবারও স্কুলমাঠে পশুর হাট বসানোর অনুমতি দিয়েছেন কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উৎপল কান্তি সরকার। ইজারাদারের সঙ্গে যোগসাজশে এক সপ্তাহ ধরে ওই স্কুলমাঠে পশুর হাট চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আজ শুক্রবার ( ২২ মে ) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, দূর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গরু-ছাগলের হাট বসেছে। মাঠজুড়ে পশুর খাদ্য ও বর্জ্যে পরিবেশ নোংরা হয়ে গেছে।

স্কুলটির শিক্ষকদের অভিযোগ, ইজারাদার ও প্রধান শিক্ষক উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছ থেকে অনুমতি নেওয়ার দাবি করে বিদ্যালয় মাঠে আবারও পশুর হাট বসিয়েছেন।

তবে উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ টি এম আরিফ দাবি করেছেন, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না।

ইজারাদার ও দুর্গাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ আবেদ আলী সরদার বলেন, দূর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে মাঠে হাট বসানো হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে কয়েকটি হাট এখানে বসবে। আইনের দিক থেকে ঠিক না হলেও বহু বছর ধরে এটি চলে আসছে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

এর আগে ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে স্কুলমাঠ থেকে পশুর হাট সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর দুর্গাপুর হাটের আলী কালি মার্কেটের পেছনের মাঠে পশুর হাট বসেছিল। তবে দুই বছর না যেতেই আবার স্কুলমাঠে হাট বসানো শুরু হয়েছে।

এর আগে স্কুলমাঠে পশুর হাট বসানো এবং এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র বাবদ টাকা আদায়ের অভিযোগে ২০২৪ সালের মে মাসে প্রধান শিক্ষক উৎপল কান্তি সরকারের এমপিও স্থগিত করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। এখন পর্যন্ত তাঁর এমপিও স্থগিত রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক উৎপল কান্তি সরকার বলেন, ঈদ উপলক্ষে হাট বসানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা লঙ্ঘনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রধান শিক্ষক কোনো মন্তব্য না করে ফোনের সংযোগ কেটে দেন।

উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ টি এম আরিফ বলেন, ‘স্কুলমাঠে অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা জেলা প্রশাসনের মতামত চেয়েছি। তবে এখনো কোনো জবাব পাইনি।

আর দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের ইজারাদার জানিয়েছেন, তিনি স্কুল কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে মাঠে পশুর হাট বসিয়েছেন। এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।’

হাট ইজারার শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে ইজারাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—এ প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here