বকশীগঞ্জ প্রতিনিধি :
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার বগারচর ইউনিয়নে হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি ভিজিএফের অর্ধেক কার্ড দলীয় নেতাকর্মীদের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার(২১ মে) দুপুরে ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোহেল রানা পলাশের নিজ কার্যালয়ে এসব কার্ড বিএনপির নেতাদের কাছে হস্তান্তর করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারি ত্রাণসামগ্রী এভাবে দলীয়ভাবে বিতরণের অভিযোগে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও হতদরিদ্রদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে বগারচর ইউনিয়নে এবার হতদরিদ্র, দুস্থ ও অসহায় পরিবারের জন্য মোট ৮ হাজার ৪৮টি ভিজিএফ কার্ড বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি কার্ডের বিপরীতে সুবিধাভোগী পরিবার ১০ কেজি করে চাল পাবেন। সে হিসাবে ইউনিয়নে মোট ৮০ হাজার ৪৮০ কেজি চাল বরাদ্দ এসেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মোট বরাদ্দের প্রায় অর্ধেক অর্থাৎ ৪ হাজার ২৪টি কার্ড ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীদের মাধ্যমে বিতরণের জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে। কার্ড হস্তান্তরের সময় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি হাসিবুল হক সঞ্জু, বগারচর ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বেলায়েত হোসেন বুলাল এবং সাধারণ সম্পাদক সফিউল আলমসহ দলীয় অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
ইউনিয়নের কয়েকজন বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভিজিএফের চাল আসে গরিব মানুষের জন্য, কোনো দলের জন্য নয়। চেয়ারম্যান যদি অর্ধেক কার্ডই দলীয় নেতাদের হাতে দিয়ে দেন, তাহলে আমাদের মতো সাধারণ গরিব মানুষ চাল পাবে কীভাবে? এসব কার্ড এখন নেতাকর্মীদের আত্মীয়-স্বজন ও পছন্দের লোকজনের মাঝে ভাগাভাগি হবে। প্রকৃত অভাবীরা চাল থেকে বঞ্চিতই থেকে যাবে।
বগারচর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোহেল রানা পলাশ বলেন, দলীয় নির্দেশনা মোতাবেক ভিজিএফের বরাদ্দকৃত কার্ড উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি হাসিবুল হক সঞ্জুর হাতে তুলে দিয়েছি, যাতে ইউনিয়ন পরিষদের ওপর কোনো চাপ না আসে।
তবে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম প্রিন্স বলেন, দল থেকে এ ধরনের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুরাদ হোসেন বলেন, সরকারি ত্রাণ বা ভিজিএফ কার্ড কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মাধ্যমে বিতরণের আইনি সুযোগ নেই। নিয়মবহির্ভূতভাবে কার্ড হস্তান্তর করা হয়ে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

