বিশেষ প্রতিনিধি :
রাজধানী ঢাকায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে শেরপুরের সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা। এ ঘটনায় রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর শেরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত রামিসার পৈতৃক বাড়ি শেরপুর জেলা শহরের খরমপুর মহল্লার নয়ানীবাজার এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় যুগ আগে ব্যবসায়িক কারণে রামিসার বাবা হান্নান মোল্লা পরিবারসহ ঢাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তারা শেরপুরের এক সময়ের পরিচিত বস্ত্র ব্যবসায়ী ‘মোল্লা বস্ত্রালয়’ পরিবারের সদস্য।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের ৭ নম্বর সড়কের ৩৯ নম্বর বাড়ির তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
পুলিশ জানায়, হত্যার পর শিশুটির মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়। মাথাবিহীন রক্তাক্ত দেহ খাটের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয় এবং বিচ্ছিন্ন মাথাটি পাওয়া যায় বাথরুমে। ঘটনাস্থলের ভয়াবহতা দেখে এলাকাবাসী হতবাক হয়ে পড়েন।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, হত্যার পর মরদেহ গুম করার চেষ্টা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় পাশের ফ্ল্যাটে বসবাসকারী ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩৪) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, হত্যার কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। নিহত শিশুর পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছে পুলিশ।
এ ঘটনায় রাজধানী ঢাকাসহ শেরপুর জেলাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শিশুটির হত্যাকাণ্ড নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। স্থানীয়রা দ্রুত বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

