কুমিল্লা প্রতিনিধি :
কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী উপজেলা নাঙ্গলকোট প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর। প্রায় ২২৫ দশমিক ৯৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ উপজেলায় ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী জনসংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৬৫২ জন। বর্তমানে সেই সংখ্যা প্রায় ৫ লাখে পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দীর্ঘদিন উন্নয়নবঞ্চিত হিসেবে পরিচিত নাঙ্গলকোটে গত এক যুগে দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়েছে। শতভাগ বিদ্যুতায়ন, রাস্তা-ঘাট উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে অগ্রগতি, নতুন সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বদলে গেছে উপজেলার সামগ্রিক চিত্র।
তবে এত উন্নয়নের পরও নাঙ্গলকোটবাসীর দীর্ঘদিনের একটি দাবি এখনো অপূর্ণ রয়ে গেছে। উপজেলা প্রতিষ্ঠার চার দশক পার হলেও এখনো সেখানে গড়ে ওঠেনি একটি পূর্ণাঙ্গ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার কোথাও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে পাশের উপজেলা থেকে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পৌঁছাতে পৌঁছাতে অনেক সময় ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও মূল্যবান সম্পদ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে প্রতিনিয়ত ক্ষতির মুখে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
স্থানীয়দের ভাষায়, “ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই আগুন সবকিছু গ্রাস করে ফেলে।” ফলে বাজার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়িতে আগুন লাগার ঘটনা এখন এলাকাবাসীর জন্য বড় আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নাঙ্গলকোটের আশপাশের প্রায় সব উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থাকলেও বৃহৎ এই জনপদ এখনো মৌলিক নিরাপত্তা সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এ নিয়ে বহুবার দাবি, আলোচনা ও আশ্বাস এলেও বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, একটি আধুনিক ফায়ার সার্ভিস স্টেশন শুধু অগ্নিনির্বাপণের জন্য নয়, মানুষের জীবন, সম্পদ ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তাই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে দ্রুত নাঙ্গলকোটে একটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

