সরকারি বরাদ্দের অপেক্ষা নয়, গ্রামবাসীর ৩৫ লাখ টাকায় নির্মিত হলো ৮০ ফুটের সেতু

সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি :

 

সরকারি দপ্তরের দোরগোড়ায় বছরের পর বছর ঘুরেও মেলেনি সেতু। অবশেষে চরম ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে অনন্য নজির গড়লেন মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার কান্দাপাড়া গ্রামের মানুষ।

সরকারি সহায়তার অপেক্ষায় না থেকে গ্রামবাসীর নিজস্ব অর্থায়নে গাজীখালী নদীর ওপর নির্মিত হয়েছে একটি টেকসই সেতু। এর ফলে ১২টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত কষ্টের অবসান হলো।

​প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৮০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৮ ফুট প্রস্থের এই সেতুটি এখন কান্দাপাড়া, নয়াপাড়া, ভগনপুর কেষ্টি, গাঙ্গুটিয়া ও ধানকোড়াসহ আশপাশের জনপদের আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২০২৫ সালের মার্চ মাসে শুরু হওয়া সেতুর নির্মাণকাজ চলতি বছরের মার্চে শেষ হয়ে চলাচলের উপযোগী হয়। বর্তমানে সেতুটি দিয়ে ভ্যান, মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাসসহ ছোট যানবাহন অনায়াসে চলাচল করছে। এতে বারোবাড়িয়া ও নয়াডিঙ্গি বাজারের মতো বাণিজ্যিক কেন্দ্রে যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি ও সময় দুটোই সাশ্রয় হচ্ছে।

​গ্রামের ৮০ বছর বয়সী প্রবীণ বাসিন্দা জানু মিয়া স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, “এবারের বর্ষায় আমাদের আর কোনো দুশ্চিন্তা নেই। আগে বর্ষায় নৌকা আর অন্য সময় বাঁশের সাঁকোই ছিল একমাত্র ভরসা। প্রায়ই নৌকা ডুবে বা সাঁকো থেকে পড়ে আহতের ঘটনা ঘটত, এখন তা ইতিহাস।”

​পরিবহন সংকটের চিত্র তুলে ধরে স্থানীয় ভ্যানচালক পারভেজ জানান, আগে মালামাল নিয়ে নদী পার হতে হয় ৪ কিলোমিটার পথ ঘুরে আসতে হতো, নাহয় ভ্যান এপাড়ে রেখে নৌকায় করে ওপাড়ে মাল নিতে হতো।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

এখন সরাসরি ভ্যান চালিয়ে গন্তব্যে যাওয়া যাচ্ছে। মাদ্রাসার আট বছর বয়সী ছাত্রী আনিসা জানায়, আগে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হতে খুব ভয় লাগত, এখন সে নিরাপদে হেঁটে যাতায়াত করতে পারছে।

​সেতুটি নির্মাণের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, “সরকারি দপ্তরে বহুবার আবেদন করেও কাজ না হওয়ায় আমরা নিজেরাই উদ্যোগী হই। সামর্থ্য অনুযায়ী গ্রামবাসী কেউ ৫ হাজার আবার কেউ ৩ হাজার টাকা দিয়ে তহবিল গঠন করেন।

পিলার ও ভিম ঢালাইয়ের কাজ গ্রামবাসীর টাকায় সম্পন্ন হলেও ওপরের স্টিলের পাটাতনের খরচ বহন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।”

​সেতু বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য মো. শরিফুল ইসলাম জানান, ২০২৫ সালের রোজার ঈদের সময় গ্রামবাসী বৈঠক করে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

বর্তমানে সেতুর পাটাতন ৬ ফুট প্রশস্ত থাকলেও তা ৮ ফুটে উন্নীত করার কাজ দ্রুতই শুরু হবে, যাতে আরও কয়েক লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে।

​এই সেতুর মাধ্যমে অসুস্থ রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া এবং কৃষি পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া ও দীর্ঘ পথের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেলেন এই অবহেলিত জনপদের মানুষ।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here