নীলফামারী প্রতিনিধি :
নীলফামারীর ডিমলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে তিনটি গুরুতর মামলার এজাহারনামীয় ও ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি মো. রেজোয়ান ইসলামকে (৩০) গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত রেজোয়ান ডিমলা উপজেলার গয়াবাড়ী এলাকার মো. জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে।
শুক্রবার (৮ মে) পুলিশ সূত্রে জানানো হয়, পলাতক রেজোয়ান ইসলামকে গোপন সুত্রের খবরে বৃহস্পতিবার ( ৭ মে) সন্ধ্যায় ডিমলা উপজেলার হাসপাতাল এলাকার থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় ডিমলা থানা পুলিশ।
সুত্র মতে তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, চাঁদাবাজি ও অগ্নিসংযোগসহ একাধিক অভিযোগে ডিমলা থানায় তিনটি মামলা দায়ের হয়। যা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি আত্মগোপনে থেকে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে আসছিলেন।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিমলা থানা পুলিশের একটি চৌকস দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। শুক্রবার তাকে বিধি মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট নথিপত্র অনুযায়ী, রেজোয়ানের বিরুদ্ধে মোট তিনটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছরের ২০ মার্চ (২০/০৩/২৬) দায়েরকৃত জিআর মামলা নং-৭০। এই মামলায় দাঙ্গা সৃষ্টি, পথরোধ করে মারপিট, প্রাণঘাতী অস্ত্র দিয়ে গুরুতর জখম (ধারা ৩২৬/৩০৭) এবং অগ্নিসংযোগ ও সম্পদ ধ্বংসের (ধারা ৪৩৫/৪২৭) মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারী (১৮/০১/২৬) দায়েরকৃত জিআর মামলা নং-১৪ এ রেজাওয়ানের বিরুদ্ধে বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ, চুরি (৩৭৯), চাঁদাবাজি (৩৮৫) এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
পাশাপাশি গত বছরের ২৫ মার্চ (২৫/০৩/২৫) দায়েরকৃত জিআর মামলা নং-৫৩ এ চাঁদাবাজি, মারপিট ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের এই দায়েরকৃত মামলায় আদালত কর্তৃক গ্রেফতারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) জারি ছিল।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রেজাওয়ান নিজেকে জামায়াতের নেতা (রোকন) হিসাবে দাপট দেখিয়ে চলতো। তবে উপজেলা জামায়াত থেকে জানানো হয় সে দলের কেউ নন।
এ ছাড়া রেজাওয়ান ডিমলা উপজেলার দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রতিনিধি এবং অনলাইন নিউজ পোর্টাল বার্তা বাজারের সাংবাদিক বলে পরিচয় দিতেন।
এলাকার একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে মন্তব্য করেন জামায়াত নেতা ও সাংবাদিক পরিচয়ের আড়ালে এলাকায় বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত ছিল সে। তার গ্রেফতারের খবরে বিভিন্নজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মন্তব্য করে লিখেছেন।
সোহাগ খান লোহানী তার ফেসবুকে লিখেন একটি গ্রেফতার বুঝিয়ে দিল অপরাধী কোন দলের নয়। বাকীরা সাবধান – সাংবাদিকতার নামে অপ সাংবাদিকতা বন্ধ করুন।
অপর দিকে ফেসবুকে আরিফুজ্জামান আরিফ নামের একজন লিখেছেন ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামী হওয়ায় সাংবাদিক রেজওয়ানকে গ্রেফতার করেছে ডিমলা থানা পুলিশ।
এই স্ট্যাটাসে এ,বি সিদ্দিক নামের একজন লিখেছেন সাংবাদিক নয়,সে একজন সাংঘাতিক। জামায়াতকে পুঁজি করে অনেক দূর্ণীতি ও অনিয়মের সাথে জড়িত। এমন অনেকেই ফেসবুকে মন্তব্য করতে দেখা যায়।
ডিমলা থানার ওসি শওকত আলী সরকার জানায়, “আইনের উর্ধ্বে কেউ নয়। রেজোয়ান ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল। তিনি পলাতক ছিলেন। তাকে গ্রেফতারের পর যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।” আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণ করেছেন।
ওসি আরও বলেন, এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

